কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সৈকত। এ দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন ১২০ কিলোমিটার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, যেখানে প্রতিটি ঢেউ নিয়ে আসে নতুন গল্প, নতুন আনন্দ আর নতুন অভিজ্ঞতা। আর এ আনন্দ উপভোগ করতে এবং অভিজ্ঞতা অর্জনে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেন। তবে এতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন।
পর্যটকরা জানান, কক্সবাজারে সমুদ্র উপভোগ ছাড়া বিনোদনের আর কোন ব্যবস্থা নেই। তাই তারা ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার ছেড়ে চলে যান।
এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কক্সবাজারে দীর্ঘসময় ধরে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’ এর আয়োজন করেছে পর্যটন কর্পোরেশন।
কক্সবাজার শহরের হোটেল শৈবালের সমুদ্র সৈকত ও ঝাউবনের বিস্তৃত প্রান্তরে ৩৫ একর জায়গাজুড়ে এ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে। ১ নভেম্বর শুরু হয়ে এ আয়োজন চলবে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য দিনে ও রাতে নানা ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন থাকছে এ কার্নিভালে।
কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল উদযাপনের লক্ষ্যে গতকাল সোমবার (১৩ অক্টোবর) পর্যটন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পর্যটন কর্পোরেশন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, পর্যটন কর্পোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. গনী উল আজম, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আব্দুর রউফ মিয়া, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান।
এ সময় পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুন ও ব্যতিক্রমীভাবে উপস্থাপন এবং বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের এ কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য। বিগত বছরগুলোতে এখানে বছরজুড়ে পর্যটকের আগমন বাড়লেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তেমন বাড়েনি। তাই হলিডে সিজনে লাখো পর্যটকের প্রাণচাঞ্চল্যে এবার কক্সবাজারে নতুন অভিজ্ঞতার আয়োজন থাকছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় এ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।
পর্যটন কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কার্নিভালের মূল আকর্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে: ফুড জোন: এখানে থাকছে দেশি-বিদেশি খাবার, লাইভ ফুড স্টল, বারবিকিউ, আইসক্রিম পার্লার ও জুস কর্নার; মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজে থাকছে পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্য ও স্থানীয় কারিগরদের হাতে তৈরি শিল্প-যেখানে আপনিও অংশ নিতে পারবেন। সৃষ্টির অভিজ্ঞতায়; ওয়েলনেস জোনে থাকছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন; কিডস জোনে থাকছে আর্ট, নিরাপদ রাইড ও হরেকরকমের মজার কার্যক্রম; ক্যাম্পিং জোন: এখানে থাকছে নাইট-স্টে ক্যাম্পিং, ওপেন-স্কাই লাইব্রেরি, সেলফ-বারবিকিউ, হ্যামক, ক্যাম্পফায়ার এবং টেলিস্কোপে তারাভরা আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা।
এছাড়াও থাকছে লাইভ আর্ট ও ফটো গ্যালারি, ওপেন-স্কাই মুভি থিয়েটার, ভিআর জোন, সার্কাস টেন্ট, কায়াকিং, লাইভ-বাঞ্জিং, গো-কার্ট, বিচ ফুটবল, বিচ হ্যান্ডবল, বিচ ভলিবল, বিচ কাবাডি, ব্যাডমিন্টন ও স্যান্ড স্কাল্পচার।
বিশেষ দিনের উদযাপনে থাকছে বিজয় দিবস উদযাপন, হ্যাপি নিউ ইয়ার, হলি ক্রিসমাস। আরও থাকছে, বিচ ভিউ ওপেন থিয়েটার; যেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে সমুদ্রে সূর্যাস্তের সোনালি আলো আর বাঁশির সুরে হারিয়ে যাওয়ার নতুন অভিজ্ঞতা।
পর্যটন কর্পোরেশনের মালিকানাধীন হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ বাসসকে বলেন, আমরা শুধু একটি কার্নিভাল আয়োজন করতে চাই না। আমরা চাই, কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হোক। সমুদ্র থাকবে, সূর্যাস্ত থাকবে, ঝাউবন থাকবে-এর সঙ্গে যুক্ত হবে খাবার, সংগীত, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, অ্যাডভেঞ্চার এবং পারিবারিক বিনোদন।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুর বাসসকে বলেন, থাইল্যান্ডের ফুকেট-পাতায়া, মালয়েশিয়ার লংকাউই, ভারতের গোয়া, ইন্দোনেশিয়ার বালি, নেপাল ও ভুটানসহ বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোতে রাতের বিনোদন ও লাইভ মিউজিক থাকে। বিদেশি পর্যটক টানতে কক্সবাজারেও রাত্রিকালীন বিনোদন বাড়ানো দরকার।
সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বাসসকে বলেন, কক্সবাজারের পর্যটনকে বিশ্বময় করার প্রক্রিয়া নির্ধারণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে পড়ে না থেকে সামনে এগুতে সবার সমন্বিত পরামর্শ নিয়ে আমরা এগুবো। এভাবেই কক্সবাজার অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

