আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্ট জিততে পঞ্চম ও শেষ দিনের শেষ ২৩ ওভারে ৩ উইকেট প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ঐ সময় দু’টি রান ও একটি ক্যাচ ফেলে জয়ের ভালো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি টাইগাররা। শেষ সেশনে দারুণ লড়াইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে টেস্ট ড্র করলো আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ৪৭৯ রানের টার্গেটে ১৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে আফগানিস্তান। দুই ইনিংসে বাংলাদেশ যথাক্রমে- ৩৪৬ ও ৭ উইকেটে ৩৭২ রান করেছিল। প্রথম ইনিংসে আফগানরা ২৪০ রান করেছিল।
বাংলাদেশ-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে এই প্রথম কোন ম্যাচ ড্র হলো। আগের দুই ম্যাচের মধ্যে একটি করে টেস্টে জয় পায় বাংলাদেশ ও আফগানরা।
আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান করে আফগানিস্তান। টেস্ট জিততে ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিন আফগানদের দরকার ছিল আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট।
ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ৩৫ ও হাসমতুল্লাহ শাহিদি ১৯ রান নিয়ে পঞ্চম ও শেষ দিন খেলতে নামেন। ১ রান যোগ করার পর বাংলাদেশের ফিল্ডারের থ্রোতে পায়ে বলের আঘাতে আহত অবসর নেন শাহিদি। এরপর ক্রিজে আতালের সঙ্গী হন ইকরাম আলিখিল। বাংলাদেশী বোলারদের দারুণভাবে সামাল দিয়ে হাফ-সেঞ্চুরির জুটি গড়েন শাহিদি ও ইকরাম। এসময় ১৪৭ বল খেলেন তারা।
দলীয় ২০২ রানে ইকরামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার এবাদত হোসেন। ইকরামের বিদায়ে ক্রিজে আসা ইসমাত আলমকে নিয়ে সাবধানে এগোতে থাকেন আতাল। রানের পেছনে না ছুটে উইকেট বাঁচিয়ে খেলাই মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের। ১২৩ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তারা। এই জুটিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ নেন আতাল। আফগানিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়লেন আতাল।
আতালের সেঞ্চুরি পরই সাজঘরে ফিরেন ইসমাত। বাংলাদেশ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের বলে প্রথম স্লিপে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দেন ৬০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করা ইসমাত।
ইসমাতের বিদায়ে ক্রিজে আসেন ২০ রানে আহত অবসর নেওয়া শাহিদি। সেঞ্চুরিয়ান আতালের সাথে আবারও জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তিনি। আগেরবার ২৬ রানের পর এবার ২২ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। স্পিনার মিরাজের বলে উইকেট ছেড়ে খেলে মিড অনে হাসান মাহমুদকে ক্যাচ দেন শাহিদি। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।
শাহিদি ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আতাল। স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে তানজিদ হাসানকে ক্যাচ দেন আতাল। ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৩২ বলে ১১১ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার।
১১৯তম ওভারের ২৮১ রানে সপ্তম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তখনও দিনের ২১ ওভার বাকী ছিল।
১২২তম ওভারের প্রথম দুই বলে রান আউটের ভালো সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ। এসময় জীবন পান ইয়ামিন আহমাদজাই ও কাইস আহমাদ।
১৩১তম ওভারে মিরাজের পঞ্চম ডেলিভারিতে ক্যাচ তুলেন কাইস। ডিপ মিড উইকেটে কাইসের সহজ ক্যাচ ফেলেন হাসান।
এরপর ১৩৬ ওভার পর্যন্ত বিপদ ছাড়াই কাটিয়ে দেন আহমাদজাই ও কাইস। তবে পরের ওভারে মিরাজের শেষ ডেলিভারিতে শর্ট লেগে মোমিনুলকে ক্যাচ দেন আহমাদজাই। ৪ চারে ৮৫ বলে ১৯ রানে ফিরেন আহমাদজাই।
নবম উইকেটে জুটি বেঁধে দিনের শেষ ৩ ওভার কাটিয়ে দেন কাইস ও জিয়া উর রহমান। এরপর অতিরিক্ত আরও ৫ মিনিট ও ২ ওভার খেলা চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত দেন অন ফিল্ড আম্পায়াররা। অতিরিক্ত শেষ ২ ওভারও ভালোভাবে পার করে নাটকীয়ভাবে টেস্ট ড্র করে আফগানিস্তান।
৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন নয় নম্বরে নামা কাইস। অন্যপ্রান্তে ১২ বল খেলেও কোন রান তুলতে পারেননি জিয়া।
এবাদত ৫০ রানে এবং মিরাজ ৭৩ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া হাসান ও তাইজুল ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
দুই ইনিংসে ব্যাট হাতে ৫৩ ও ১০২ রানের পাশাপাশি উইকেটরক্ষক হিসেবে ৯টি ডিসমিসালে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের লিটন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৩৪৬/১০, ৯২.৩ ওভার।
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ২৪০/১০, ৮৯.১ ওভার।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ৩৭২/৭ ডি, ১০৫.২ ওভার (লিটন ১০২, শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১, মিরাজ ৫২*, সালিম ২/৬৯)।
আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস (টার্গেট- ৪৭৯) : ৩৪৬/৮, ১৪২ ওভার (আতাল ১১১, রহমত ৫১, কাইস ৪৯*, এবাদত ৩/৫০, মিরাজ ৩/৭৩)।
ফল : ড্র।
ম্যাচ সেরা : লিটন দাস (বাংলাদেশ)।

