চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ ও মিছিলকারীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের উপজেলার নাজিরহাট ঝংকার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়,সর্বস্তরের জনতা’ ব্যানারে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছেন ছাত্র-জনতা। বিক্ষোভকারীরা নাজিরহাট ঝংকার মোড় এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও যুবদল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা সড়কে বসে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, মহাসড়কে ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে স্লোগান দেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। একপর্যায়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সেখানে উপস্থিত যুবদলের নেতাকর্মীরা সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে চলে গেলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে আন্দোলন কারীরা দাবী করে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বিএনপি যুবদল হামলা চালিয়েছে। অপরদিক বিএনপি যুবদল দাবী করেন,আন্দোলনকারীরা সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইলে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোজাহেরুল ইকবাল লাভলু দাবি করেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে কর্মসূচি পালনকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা সক্রিয় ছিলেন। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের আড়ালে তারা সরকারবিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সড়কে মব তৈরির চেষ্টা করছিল। সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছ। এদিকে ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে আসেন,ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এসময় তিনি বলেন,নাজিরহাট ঝংকার মোড় একটি গুরত্বপূর্ণ স্থান। কিছু জনতা এখানে বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করে। তাদের দাবী ছিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা অফিসার্স ইনচার্যকে এখানে আসতে হবে। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে আমরা রওনা দি। এসে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে শুনতে পেলাম। প্রথমে তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান থাকলেও শেষে শান্তিপূর্ণ ছিলনা,গাড়ী ভাংচুরসহ দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি করে। আমরাও চাই নিরাপদ সড়ক তবে জনগনের ক্ষতি হয় এমন আন্দোলন থেকে দূরে সরে আসতে হবে।
উল্লেখ্য,১ মে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের উপজেলার পাইন্দং নয়াবাজারের দক্ষিনে স্কুলের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় বরিউল হোসেন রবি নামে প্রাণ হারান এক প্রবাসী যুবক। একই সড়কের অল্প দূরত্বে একই দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় স্থানীয় মোটরসাইকেল মেকানিক শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (১৮) নামের পিতা- পুত্র নিহত হয়েছে। এদিন দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা দুর্ঘটনায় জড়িত বিআরটিসি বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভের কারণে কিছু সময়ের জন্য চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলে মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় পরপর এসব মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তারা অবিলম্বে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর প্দক্ষেপ চাই।

