গান কবিতা আর কথামালা ডালি নিয়ে খালিদের বন্ধু, স্বজন আর সহযাত্রীরা মিলেছিল এক অন্য রকম সন্ধ্যায়। হেমন্তের হিম হিম সন্ধ্যায় মঞ্চের এক পাশে শ্বেত ফুলের শুভ্রতায় আহসান ছিল মঞ্চের এক পাশে। অন্যপাশে একে একে তাঁর সহপাঠী, সহযাত্রী, কবিবন্ধু, চিত্রী, সাহিত্য সেবী, আবৃত্তিকার, নাট্যজন আর কন্ঠশিল্পীরা মেতেছিলেন স্মৃতি কথায়, কাব্য আলোচনায়, চিত্রভাষার অন্বেষায়, স্বরচিত কবিতায়, কবিতা পাঠে আর হাসানের লেখা গানের মায়ায়।
স্মৃতির মায়ায় হাসানের বেড়ে ওঠা, কবি হওয়ার গল্প বুনে ছিলেন নাট্যজন শিশির দত্ত, আলকোচিত্রী মওদুদুল আলম, কবি আসাদ মান্নান, কবি নাট্যকার অভিক ওসমান, প্রকাশক মুনিরুল মনির, অধ্যাপক মাইনুল হাসান চৌধুরী এবং আমেনা শাহীন।
স্বরচিত কবিতা আর কথায় মেতেছিলেন কবি ওমর কায়সার, কবি আকতার হোসেন, কবি ইউসুফ মোহাম্মদ, কবি রিজওয়ান আহমেদ, সাংবাদিক, কবি নাজিমুদ্দিন শ্যামল, কবি আশিষ সেন, কবি বিজন মজুমদার, কবি রিমঝিম আহমেদ।
হাসানের কবিতা পাঠ করে বইয়ের কালো অক্ষরমালাকে শব্দময় করে গড়েন নাট্যজন শুভ্রা বিশ্বাস, আবৃত্তিকার রাশেদ হাসান, আবৃত্তিশিল্পী মিসফাক রাসেল, নাট্যকর্মি অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য।
নকীব খানের সুরে গীতিকার খালিদের অমিয় দুই গান গেয়ে শোনান ইয়ামিন ওদায়িদ ওয়ালি আর গীটারে সংগত করেন ইয়াসির ওবায়িদ ওয়ালি।
কবিতার ছোট ছোট পাঠ দিয়ে পুরো অনুষ্ঠান এক সুত্রে গেঁথেছিল অমিতা বড়ুয়া। আর এই অনুষ্ঠান আয়োজন যার উদ্যোগে তিনি ‘স্লোগান’ সম্পাদক মোহাম্মদ জহির।
এই সন্ধ্যার শেষ কথামালায় বলেন খালিদ আহসানের জীবন সঙ্গী আইভি হাসান। তিনি সকলকে ধন্যবাদ দেন এই আয়োজনে সাথে থাকার জন্যে এবং খালিদের সৃষ্টি কর্মকে বাঁচিয়ে রাখতে খালিদ আহসান ফাউন্ডেশান গঠন করার ঘোষণা দেন, সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। একই সাথে এর মাধ্যমে আগামি বছর থেকে প্রতি বই মেলায় সেরা প্রচ্ছদের জন্যে শিল্পী খালিদ হাসান স্মৃতি স্বারক প্রদানের কথা বলেন।
হাসানের লিখে যাওয়া অক্ষরমালায় হাসান খুঁজে ফিরেছিল – ” সময়ের সন্ধিক্ষনে আমি এক ক্ষুদ্র বালুকনা কুড়োই নুড়ি আদীবাসি গুহার আলোকে খুঁজি প্রাচীন চিহ্ন… ”
আমরাও জন্মদিনে তাঁর রেঁখে যাওয়া শিল্প ভুবন থেকে খুঁজে ফিরেছি আমাদের মানস লোকে কবি ও শিল্পী খালিদ আহসানকে।

