শিক্ষকতা একটা মহান পেশা। শিক্ষকরা সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য এটি একটি বড়ো জায়গা তৈরি করে। বাবা মায়ের পরে যদি কেউ থাকে সেটা হচ্ছেন শিক্ষক। আমরা শিক্ষাটা শুরু করি আপনাদের মাধ্যমে। আমি শিক্ষক হিসেবে সাড়ে ৪ বছর যে সম্মানটুকু পেয়েছি। তা অন্য পেশায় পাওয়া যাবে না। আমি মনে করি শিক্ষক শিক্ষার্থী অন্যরকম একটা সুন্দর সম্পর্ক। শিক্ষকদের জন্য বরাবরই শুভ কামনা থাকলো। আমরা শিক্ষকদের যথাযথ সব সুবিধা দিতে পারছিনা। শিক্ষকদের কাছে অনেক কিছু শেখার রয়েছে। এখন যে বর্তমান পরিস্থিতি। আমরা চোখের দিকে তাকিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে পারতাম না। আমাদের জেলা প্রশাসন আপনাদের সাথে থাকবে। শিক্ষকদের দাবিগুলো উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে আমি সার্বিক সহায়তা দেবার প্রত্যয় ঘোষণা করছি। গণসাক্ষরতা অভিযানের সহায়তায় যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস, ২০২৫ পালনোপলক্ষে গতকাল (২৮ অক্টোবর,২৫) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট গ্যালারী হলে বিকেল ২.৩০ টায় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ( শিক্ষা শাখাও জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট) আফরিন ফারজানা পিংকি একথা বলেন।
জেএসইউএস নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীনা পারভীনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ও পরিচালক কবি ও প্রাবন্ধিক সাঈদুল আরেফীন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব এস এম আবদুর রহমান, উপানুষ্ঠানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যূরো ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যূরো, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম, ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু, ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্ণফুলী এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব জনি রোজারিও, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম উত্তরের সভাপতি মো. ফিরোজ চৌধুরী।অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষকতা পেশাঃ মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেএসইউএস প্রোগ্রাম অফিসার খেনি মারমার সঞ্চালনায় ধারণাপত্র পাঠ করেন জেএসইউএস মিল অফিসার আহছান উল্লাহ রায়হান।
বিশেষ অতিথি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব এস, এম আবদুর রহমান জেএসইউএসের এ আয়োজনকে ধন্যবাদ জানান এবং দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের সম্মান জানাতে গিয়ে দিবসের আয়োজন করতে হয়। শিক্ষকদের পেশাকে মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে পরিপালনের আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন,শিক্ষাক্ষেত্রে পলিসিগত কারণে অনেক সুফল পেতে দেরি হয় বলে উল্লেখ করেন।
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা প্রদান করা যায়নি বলে বর্তমানে তাদের গ্রহণযোগ্য আচরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। শিক্ষা ও শিক্ষক সমাজকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত করাই হলো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি জেএসইউএসের নিয়মিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
মাধ্যমিক থানা শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব মো. শফিউল আলম বলেন, শিক্ষক সমাজ জাতির সম্পদ। শিক্ষকরা আমাদের সমাজকে আলোকিত করেন। নীতি নির্ধারকদের অবশ্যই শিক্ষকদের অধিকার এবং চাহিদাকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়নে গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, বর্তমানে শিক্ষকরা যে অপমানিত হচ্ছে তা জাতির জন্য লজ্জ্বাজনক। শিক্ষকদের দাবিগুলো পূরণে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের পালন করতে হবে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্ণফুলী এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনি রোজারিও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, জেএসইউএসের চমৎকার এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে ধন্য মনে করছি। তিনি বলেন, সভ্য দেশে শিক্ষকদের প্রতি অপমান অবহেলা ও বৈষম্য কোনভাবে কাম্য নয়। তিনি শিক্ষকদের ব্যাপারে উপস্থাপিত বক্তাদের প্রতি সহমত পোষণ করে বলেন জেএসইউএস সহ ্একযোগে আমরা রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এডভোকেসী সভার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শিক্ষক নেতা ফিরোজ চৌধুরী বর্তমানে শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রতি হয়রানী বন্ধে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক ও দক্ষিণ জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ঘাটফরহাদবেগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদত উল্লাহ কাজেমী, বলুয়ারদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মল্লিকা বড়ুয়া, স্বপ্নিল ব্রাইট ফাউণ্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মাদ আলী শিকদার, মহব্বত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিংকু ভট্টাচার্য্য, রাইজিং স্টার স্কুল এণ্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক জয়া বল তপু প্রমূখ।
সবশেষে সভাপতির ভাষণে জেএসইউএস নির্বাহী পরিচালক বলেন, মৌলিক অধিকর হিসেবে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। সেক্ষেত্রে জাতীয় জীবনের শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে জাতি গঠনে সম্প্রীতির বন্ধনে সবাইকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

