কাতার এশিয়ান কাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে গতরাতে।চমকে ঠাসা গ্রুপ পর্বের শেষ দিনেও চমক অব্যাহত ছিলো।চব্বিশ দলের এই লড়াইয়ে আবেগও কম ছিলোনা।ফিলিস্তিনের এশিয়ান কাপ ফুটবল ইতিহাসে প্রথম জয় ও নকআউট পর্বে ওঠা,যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের জাপানকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে ওঠা,গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সিরিয়ার নকআউট পর্বে যাওয়া,সবগুলোই স্ব স্ব দেশের মানুষের জন্য ছিলো আবেগে ভেসে যাওয়ার উপলক্ষ্য।
তবে ফিলিস্তিনের সাফল্য পৃথিবীর সকল শান্তিকামী মানুষের আবেগকে ছুঁয়ে গেছে। পূর্ব এশিয়ার দুই দল থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার নকআউট পর্বে ওঠাও কম চমকের ছিলোনা। দক্ষিণ কোরিয়া-মালয়েশিয়ার খেলার ফলাফল ছিলো গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া চার ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলার ২১ মিনিটে জিওং উ-ইয়ং কর্নার থেকে হেড করে বল জালে পাঠালে দক্ষিণ কোরিয়া গোলের সূচনা করে।দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটে আব্দুল হালিমের গোলে মালয়েশিয়া সমতা আনে। খেলার ধারার বিপরীতে মালয়েশিয়া লীড পেয়ে যায় সমতা ফেরানোর ১১মিনিট পর।যখন আরিফ আইমানকে সিওল ইয়ং-উ বক্সে ফাউল করে এবং ভিএআর চেকের পরে রেফারী পেনাল্টি প্রদান করে।হানাপি পেনাল্টি থেকে গোল করে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন মালয়েশিয়াকে। খেলায় নাটকীয়তা বাকি ছিল অনেক।৮৩ মিনিটে লি কাং-ইনের নেওয়া ফ্রি কিক হাজমি ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দিলে ২-২ গোলে সমতায় ফেরে দক্ষিন কোরিয়া। ১৫ মিনিট ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে মালয়েশিয়ার ডি বক্সে ওহ হাইওন-গিউকে ফাউল করা হলে রেফারী ভিএআর রেফারির সাহায্যে পেনাল্টি দিলে হিউ মিন সন স্পট কিক গোল করে ৩-২ গোলে এগিয়ে নেন দক্ষিণ কোরিয়াকে। কিন্তু স্টপেজ টাইমের ১৫তম মিনিটে কার্যতঃ খেলার শেষ কিক দিয়ে কোরিয়ার জালে বল জড়িয়ে রোমেল মোরালেস মালয়েশিয়ান সমর্থকদের মধ্যে বন্য উদযাপনের উপলক্ষ্য এনে দেন।কেননা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রবল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র তাঁদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা ফল।
মালয়েশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ কিম প্যান-গন ম্যাচ শেষে ল বলেছেন,”আমাদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত ফলাফল।সমস্ত মালয়েশিয়ান সমর্থকদের অভিনন্দন,আমরা যে সমর্থন পেয়েছি তার জন্য আমি প্রশংসা করি।তারা যা করেছে তার জন্য আমি সমস্ত খেলোয়াড়দের কাছে কৃতজ্ঞ।” পক্ষান্তরে কোরিয়ান কোচ ক্লিন্সম্যান সাংবাদিকদের বলেন,”আমরা জাপানকে এড়াতে চাইনি,আজকে তিনটি গোল করা আমাদের পরিকল্পনা ছিল না।আমরা প্রথম স্থানে যেতে চেয়েছিলাম,এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য,”ক্লিনসম্যান সাংবাদিকদের আরও বলেন, “মালয়েশিয়া অনেক হৃদয় দিয়ে খেলেছে এবং আপনাকে তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে তবে আমাদের এই খেলাটি জেতা উচিত ছিল।” একই সময়ে অনুষ্ঠিত অপর ম্যাচে বাহরাইন ১-০ গোলে জর্দানকে হারিয়ে রীতিমতো গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে উঠে যায়। ৩৪ মিনিটের সময় আবদুল্লাহ ইউসুফ হেলালের গোলে বাহরাইন ছয় পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছে।ফিফার ক্রমতালিকায় ৮৪ ও ৮৫ নম্বরে থাকা দুই দলের ম্যাচটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো।শেষ হাসিটি ঐ একমাত্র গোলে বাহরাইন হেসেছে। সৌদি আরব যারা ইতিমধ্যেই শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করেছিলো,তারা থাইল্যান্ডের সাথে গোলশূন্য ড্র করার পরে গ্রুপ এফ-এর শীর্ষে রয়েছে এবং ওমান কিরগিজস্তানের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। ওমান-কিরগিজস্থান ম্যাচের অষ্টম মিনিটে মুহসেন আল ঘাসানি কর্নার থেকে গোলের সূচনা করলে ওমান শেষ ষোলোতে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।কেননা এই ম্যাচ জিতলে চার পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বর তৃতীয় সেরা হয়ে নকআউট পর্বে উঠে যেতো ওমান। কিন্তু ৮০তম মিনিটে তাদের আশা ভেঙ্গে যায় যখন কিরগিজ ফরোয়ার্ড জোয়েল কোজো ওমানের ডিফেন্ডার খালিদ আল-ব্রাইকি এবং গোলরক্ষক ইব্রাহিম আল-মুখাইনির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিকে পুঁজি করে ফাঁকা জালে বল পাঠান।১-১ গোলে ম্যাচে সমতার সাথে ওমানের স্বপ্ন ভেঙে দেন।কপাল খুলে যায় ডি গ্রুপে তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা ইন্দোনেশিয়ার। রাউন্ড অফ সিক্সটিনে কে কার মুখোমুখি:- *ইরাক বনাম জর্দান * জাপান বনাম বাহরাইন * উজবেকিস্তান বনাম থাইল্যান্ড *ইরান বনাম সিরিয়া * অষ্ট্রেলিয়া বনাম ইন্দোনেশিয়া *কাতার বনাম ফিলিস্তিন * সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম তাজিকিস্তান * দক্ষিণ কোরিয়া বনাম সৌদি আরব। ২৮শে জানুয়ারী থেকে শুরু হবে নকআউট পর্বের খেলা।

