এবারের আসর তো বটে,খুব সম্ভবতঃ এশিয়ান কাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আপসেট ঘটলো আজ কাতারের আল রাইয়ান এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটায় অনুষ্ঠিত হওয়া ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে এশিয়ার সর্বোচ্চ ফিফা পয়েন্টধারী দল ও আসরের ফেভারিট দল জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে শক্তির বিচারে অনেক পিছিয়ে থাকা দল ইরাক। ইতিপূর্বে কোনদিনই জাপানের বিপক্ষে মোটের উপর ভালো খেলতে না পারা ইরাকের এই জয় যেনো ইরাকবাসীর নিকট বিশ্বকাপ জয়ের মতো।কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে,খেলা শেষ হতেই পুরো ইরাক জুড়ে উৎসবে মেতে ওঠে দেশটির সকল শ্রেণির মানুষ।
খেলা শুরুর ৬ মিনিটের সময় ইরাকের মিডফিল্ডার জসিম পেনাল্টি এরিয়ার বাঁ দিকে একটি ক্রস বাড়ান, জাপান গোলরক্ষক সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে দারুণ এক হেডে বল জাপানের জালে জড়িয়ে দিলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইরাক। গোল পরিশোধে মরিয়া জাপান একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল বের করতে পারছিলো না।পুরো ম্যাচেই জাপানের আধিপত্য ছিলো পরিস্কার।তাঁদের করা আক্রমণগুলো কখনো ইরাকের রক্ষনভাগ আবার কয়েকবার ইরাকি গোলরক্ষক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে ইরাকের আল হাজ্জাজ বামদিক থেকে ক্রস বাড়ালে আবার সেই হুসেইন বুলেট হেডে সুজুকিকে পরাস্ত করে জাপানের জাল কাঁপিয়ে ইরাককে ২-০ গোলে এগিয়ে নেন।
বিরতির পর ইরাক পুরো রক্ষনাত্মক কৌশল নিলে জাপানের জন্য গোল পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যায়। ইরাকের প্রতিটি ফুটবলার যেনো নিজের সবটুকু নিংড়ে দেন আজ জাপানের বিপক্ষে। খেলা শেষের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে এনডো দারুণ এক গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করলেও ততক্ষণে সময় ফুরিয়ে গেছে সমতায় ফেরার। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই ইরাকের খেলোয়াড় ও স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার পাঁচেক ইরাকি উল্লাসে মেতে ওঠে। ওঠারইতো কথা।জাপানকে তো আর রোজ হারানো যাবেনা!
