প্রথম ম্যাচে প্রবল প্রতিপক্ষ অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করে হারা ভারত পাখির চোখ করেছিলো নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্থানের নিকট থেকে পয়েন্ট আদায় করা।শক্তির বিচারে ও ফিফার ক্রম তালিকা অনুযায়ী অসিদের চাইতে উজবেকরা তুলনায় সহজ প্রতিপক্ষ হওয়ায় ভারত হয়তো অমন হিসাব করেছিলো।
কিন্তু ভারতের চেয়ে ৫৯ ধাপ এগিয়ে থাকা উজবেকিস্তানেরও তো কিছু হিসাব করা ছিলো।তাই মাঠের লড়াইয়ে আর মেলাতে পারেনি ভারত তাঁদের হিসাব।কিন্তু উজবেকিস্তান ঠিকই নিজেদের হিসাব মিলিয়ে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়ে গেছে। ১৮ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার কাতারের আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হওয়ার চতুর্থ মিনিটেই উজবেক মিডফিল্ডার আহমেদ ফায়জুল্লায়েভ গোল করে এগিয়ে নেন উজবেকিস্তানকে।গোল করে বেশ উজ্জীবিত খেলতে থাকা উজবেকিস্তান ১৮ মিনিটেই পেয়ে যায় দ্বিতীয় গোল।দলের সেরা ষ্ট্রাইকার সারগিভ দর্শনীয় এক গোল করেন।২-০ গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান।ভারত সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও উজবেকিস্তানের রক্ষন প্রাচীর ভেদ করতে পারেনি।
উল্টো প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে উজবেক ডিফেন্ডার নাসরিকিয়েভ ষ্কোরশীটে নাম লেখালে ০-৩ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ভারত। দ্বিতীয়ার্ধে উজবেকিস্তান গোল বাড়ানোর চেয়ে তিন গোলকে আগলে রাখতে বেশী মনোযোগী হলে বলের দখল ভারতীয় ফুটবলারদের পায়ে থাকলেও গোল করা হয়নি শেষ পর্যন্ত।তাই দুই ম্যাচ শেষে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতেই থেকে গেলো ভারত।আর প্রথম ম্যাচ ড্র করা উজবেকিস্তান চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রপের দ্বিতীয় স্থানে আছে। এর আগে এই ‘বি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে সিরিয়াকে একমাত্র গোলে হারিয়ে টূর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্বে তথা রাউন্ড অফ সিক্সটিন নিশ্চিত করেছে অষ্ট্রেলিয়া।পুরো খেলায় অসিদের আধিপত্য থাকলেও জয়টি ছিলো বেশ কষ্টার্জিত।ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ইরভিন জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন।টানা দুই জয়ে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলো অষ্ট্রেলিয়া। গতরাতের সেরা ম্যাচটি ছিলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ফিলিস্তিনের ম্যাচটি।ফিফার তালিকায় চব্বিশ ধাপ পিছিয়ে থাকলেও আল জানুব স্টেডিয়ামে একচেটিয়া ফুটবল খেলেছে ফিলিস্তিনের ফুটবলাররা।
একের পর এক মূহুর্মূহু আক্রমণে আমিরাতের রক্ষনকে তটস্থ করে রেখেছিলো পুরো ম্যাচ জুড়ে তাঁরা।কিন্তু দুর্ভাগ্য সঙ্গী করে মাঠে নামা ফিলিস্তিন প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়তে হয় ফিলিস্তিনকে। যদিও খেলার ধারার বিপরীতে ২৩ মিনিটের সময় আরব আমিরাতের সুলতান আদিল গোল করে দলকে ১-০ তে এগিয়ে নেন। সমতায় ফিরতে মরিয়া ফিলিস্তিনের একের পর এক আক্রমণ কোনরকম ফিরিয়ে দিচ্ছিলো আমিরাতের রক্ষনভাগ।সেই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৩৬ মিনিটের সময় আমিরাতের বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়া সিয়ামকে বিপদজনক ট্যাকলে ফেলে দিলে রেফারি প্রযুক্তির সাহায্যে একই সাথে পেনাল্টি ও লালকার্ড দেন আমিরাত ডিফেন্ডার হাম্মাইকে।পেনাল্টি শট নিতে এসে সিয়াম গোল করতে ব্যর্থ হলে সমতায় ফেরার সূবর্ন সুযোগ হারায় ফিলিস্তিন।এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আমিরাত।
দ্বিতীয়ার্ধে দশজনের আমিরাতের বিপক্ষে আরও দুরন্ত ফুটবল খেলতে থাকে ফিলিস্তিন।খেলার ৫০ মিনিটের সময় ফিলিস্তিনের একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন আমিরাতের আবদেলাজিজ।১-১ গোলে সমতা আসে খেলায়।অবশিষ্ট সময় আরব আমিরাতের রক্ষনাত্মক প্রচেষ্টার নিকট হার মেনে জয়সূচক গোলটি আর পাওয়া হয়নি ফিলিস্তিনের।পুরো ম্যাচে ৬৫% বলের দখল রেখে আমিরাতের পোস্টে ২৪ টি শট নিয়েও গোল করা হয়নি ফিলিস্তিনের।বিপরীতে মাত্র ৫টি শট নেওয়া আমিরাত একটি গোল পেয়ে যায়।এই ড্রয়ের ফলে প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে জয় পাওয়া আরব আমিরাতের সংগ্রহ চার পয়েন্ট।আর ফিলিস্তিনের এটিই প্রথম পয়েন্ট লাভ।শেষ ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে জিততে পারলে নকআউট পর্বে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে ফিলিস্তিনের।

