চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এবং রাইফেল ক্লাবের সহযোগিতায় গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। রাইফেল ক্লাব জিমনেশিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং রাইফেল ক্লাবের সভাপতি আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
তিনি বলেন, রাইফেল ক্লাব ভবনটি বেশ পুরানো হয়ে গেছে। তাই ফৌজদারহাট এলাকায় রাইফেল ক্লাবের জন্য ৩/৪ একর জমি দেওয়া হবে। আর সেখানে গড়ে তোলা হবে রাইফেল ক্লাবের আউটডোর শ্যুটিং রেঞ্জ। এছাড়া শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন এলাকায় যেসব সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে একটি জিমনেশিয়াম স্থাপন করা হবে। যেখানে বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলাধুলা চালানো যাবে। সেখানে একটি উডেন ফ্লোর জিমনেশিয়াম নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সিজেকেএস জিমনেশিয়াম ভবনটিকে ১২ তলা বিশিষ্ট ভবন করা হবে। আর সেখানে প্রতি ফ্লোর এক একটি ইভেন্টের জন্য নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, এত মানুষের শহর চট্টগ্রাম। এখান থেকে খেলোয়াড় বেরিয়ে না আসার কোনো কারণ নেই। কেবল প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা এবং পরিকল্পনা। পাশাপাশি ফৌজদারহাট এলাকার ডিসি পার্কে আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে মাসব্যাপী ফুল উৎসব করা হবে। সেখানে একটি নৌকা জাদুঘর করা হবে। আর সেজন্য ফুল উৎসব চলাকালে ১৫ ধরনের নৌকার প্রদর্শনী করা হবে। এছাড়া ১০০ জন শিল্পীর পেইন্টিং প্রদর্শন করা হবে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এবং রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক।
তিনি বলেন, খেলাধুলায় উন্নতি করতে হলে বাচ্চা বয়সেই ধরতে হবে। আর সে সাথে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই জাতীয় পর্যায়ের জন্য খেলোয়াড় সৃষ্টি করা যাবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে বর্তমান জেলা প্রশাসক যে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। এ ধরনের দুরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ দরকার আমাদের সমাজে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাসান। বক্তব্য দেন, রাইফেল ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, সিজেকেএস যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) তানভীর আল নাসিফ, রাইফেল ক্লাবের নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম, হোসাইন আল ওসমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।
প্রথমবারের মত আয়োজিত এই জেলা প্রশাসক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে ২১১ টি দলের হয়ে ৪২২ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছে। নক আউট পদ্ধতির এই টুর্নামেন্ট কেবল দ্বৈত ইভেন্টে অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে রয়েছে চারটি ক্যাটাগরি। আর সে ক্যাটাগরিসমূহ হচ্ছে অনূর্ধ্ব–১৮ (বালক)। এই ক্যাটাগরিতে ৩২টি দল। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী (পুরুষ) ক্যাটাগরিতে ১২০টি দল, ৪৫ বছরের উর্ধ্বে (প্রবীণ) ক্যাটাগরিতে ২৯টি দল আর এবং বালিকা ও নারী ক্যাটাগরিতে ৩১ টি দল অংশ নিচ্ছে। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ট্রফি, মেডেল এবং সার্টিফিকেট ছাড়াও নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার। রানারআপ দল নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী পাবে নগদ ১০ হাজার টাকা পুরষ্কার।

