ম্যাকলিন পার্কে আজকের সকালটা ছিলো বাংলাদেশ জন্য। বিশেষ করে বোলারদের জন্য।দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে পেসারদের এমন পারফরম্যান্স কখনোই দেখেনি কোনদিন। শুরুটা হয় শান্তর টস জয় দিয়ে।টস জিতে কন্ডিশন বিবেচনায় বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে ভাবতে হয়নি। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতেই দুটো গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন তানজিদ সাকিব।তানজিদ যেনো আগুন ঝড়াচ্ছিলেন বলে।ম্যাচের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।অষ্টম ওভারে এসে আবার তানজিদ সাফল্য পান।২২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো কিউইরা তৃতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে।
উইকেটে তথন এই সিরিজের সফল দুই কিউই ব্যাটার উইলি ইয়ং ও দলনায়ক টম ল্যাথাম।জুটিতে ৩৬ রান করার পর প্রথম স্পেলে উইকেট না পাওয়া শরীফুল দ্বিতীয় স্পেলে এসে টম ল্যাথামকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন।নিউজিল্যান্ডের রান তখন ৫৮।এক ওভার পর এসে আবার শরীফুলের আঘাত।উইলি ইয়ংকে আউট করে নিউজিল্যান্ডকে ৬১/৪ এ পরিনত করেন।
প্রথম স্পেলে চার ওভার বল করে উনিশ রান দিয়ে উইকেটশূন্য শরীফুল দ্বিতীয় স্পেলে এসে তিন ওভারে তিন রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন।সৌম্য বোলিংয়ে এসে একইভাবে রুদ্ররুপ ধারন করলে ৩৭ রান তুলতেই ৩১.৪ ওভারে বাকি ছয় উইকেট হারিয়ে ৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।বাংলাদেশ দলের তিন পেসারের বোলিং ফিগার রীতিমতো বাঁধাই করে রাখার মতো।তানজিদ ৭-২-১৪-৩,শরীফুল ৭-০-২২-৩,সৌম্য ৬-১-১৮-৩। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই দলের মোকাবেলায় এর আগে মাত্র একবারই বাংলাদেশ অলআউট করেছিলো কিউইদের। সেটি ২০১৬ সালে নেলসনে।বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়া নিউজিল্যান্ড আজকের ম্যাচ সহ তাদের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে একশ রানের কমে মোট আটবার অলআউট হয়।দেশের মাটিতে চতুর্থবার তাদের সেই লজ্জায় ডোবালো বাংলাদেশ। ৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যক্তিগত চার রানের মাথায় পেশীতে টান পড়ায় অবসরে চলে আসেন সৌম্য। শান্ত আর এনামুল বিলম্ব করতে রাজি ছিলেন না।দুজনেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে ১৫.১ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ৯৯ রান তলে ৯ উইকেটের বিশাল জয় আর অনেক রেকর্ড সঙ্গে নিয়ে সফর শেষ করে।শান্ত ৪২ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। এনামুল আউট হওয়ার আগে ৩৩ বলে ৩৭ রান করেন।অসাধারণ বোলিংয়ের স্বীকৃতি স্বরুপ ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান তানজিদ হাসান সাকিব। সিরিজের সেরা পুরষ্কার পান নিউজিল্যান্ডের উইলি ইয়ং। সংক্ষিপ্ত স্কোর:- নিউজিল্যান্ড ৯৮/১০(৩১.৪) ইয়ং ২৪, তানজিদ ৩/১৪,সৌম্য ৩/১৮,শরীফুল ৩/২২। বাংলাদেশ:- ৯৯/১(১৫.১) শান্ত ৫১*,এনামুল ৩৭। ফলাফল:- বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:- তানজিদ হাসান সাকিব। প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ:- উইলি ইয়ং।
