এই শিরোপার জন্য উন্মুখ হয়েছিলো পুরো বাংলাদেশ।যুবারা নিরাশ করেনি।বরং যা করেছে আর যেভাবে করেছে তা ছওলো কল্পনাতীত।ব্যাট ও বলে এমন দূর্দান্ত পারফরম্যান্স আসলে কল্পনাতেই করা যায়।কিন্তু কল্পনাকে আজ বাস্তবের জমিনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিলো বাংলাদেশের যুবারা।আরব আমিরাতের আইসিসি গ্রাউন্ডে যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশের অনবদ্য পারফরম্যান্সের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে প্রতিপক্ষ আরব আমিরাত।তার ১৯৫ রানে হারিয়ে যুব এশিয়া কাপের নততুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।এরপর আশিকুর রহমান শিবলীর সাথে জুটি গড়েন রিজওয়ান।দুজন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১২৫ রান করেন।রিজওয়ানের ব্যক্তিগত ৬০ রান করে আউট হওয়ার মাধ্যমে ভাঙে এই জুটি।এরপর উইকেটে আসেন সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং হিরো আরিফুল। উইকেটে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন তিনি।
অপর প্রান্তে নিজের স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করতে থাকেন শিবলী।কোন চাপ না নিয়ে বাজে বলের পাওনা মিটিয়ে সিঙ্গেলসের মাধ্যমে রানের চাকা সচল রাখা।ক্রিকেটীয় ভাষায় যাঁকে বলা হয় “সেন্সেবল ব্যাটিং”। গ্রুপ পর্ব থেকে আজকের ফাইনাল পর্যন্ত এমনই ব্যাটিং করে টূর্নামেন্টে দুটো সেন্চুরী ও দুটো হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেলে আসরের সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছেন শিবলী।দুজনের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৮৪ রান আসে।এই জুটি গড়ার পথেই শিবলী ম্যাজিক ফিগার তথা সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।এরপর ব্যক্তিগত ৫০ পূর্ণ করেই আরিফুল আউট হয়ে গেলে জুটি ভাঙে।ইনিংসে আরিফুল ৬ টি বাউন্ডারী মারেন।মজার বিষয় হলো,তার ৫টিই মেরেছেন রিভার্স সুইপ করে।তারপর স্লগ ওভারের নিয়মানুযায়ী মেরে খেলতে গিয়ে ৫৭ রান তুলতে আরও পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।৪৯.৪ ওভারের সময় দূর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে শিবলী আউট হয়ে যান।গ্যালারীতে উপস্থিত কয়েক হাজার বাংলাদেশী ও স্বাগতিক দর্শকেরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে শিবলীকে তাঁর অনবদ্য ব্যাটিংয়ের জন্য সম্মান জানান।তাঁর নামের পাশে তখন ১২৯ রান।১২ টি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি সমৃদ্ধ ইনিংসটিকে আর দুটো বল পর্যন্ত টেনে নিতে পারলে শুরু থেকে শেষ করে আসার বিরল ইতিহাস সৃষ্টি হতো।সেই আক্ষেপ বাদ দিলে যা করেছেন তাতেই ইতিহাস হয়ে থেকে যাবেন যুব এশিয়া কাপের ইতিহাসে।নির্ধারিত ৫০ ওভারে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৮২/৮।
আরব আমিরাতের হয়ে আয়মান ৫২ রান চার উইকেট নেন। ২৮৩ রানের লক্ষ্যে নেমে দলীয় ১২ রানে সেমিফাইনালে ভারতকে গুঁড়িয়ে দেওয়া বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধার বলে প্রথম উইকেট হারানো আমিরাত ব্যাটসম্যানরা একবারের জন্যও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি।বাংলাদেশের বোলারদের সম্মিলিত দারুণ বোলিং তাঁদের স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি। আজকের ফাইনালে বাংলাদেশের বোলাররা যেনো সাঁজানো চিত্রনাট্য অনুযায়ী হুবহু প্রতিফলন ঘটিয়েছেন দুবাইয়ের আইসিসি গ্রাউন্ডে।আমিরাতের স্কোরকার্ড খেয়াল করে দেখুন।প্রথম দুই উইকেট নিয়ে শুরু করলেন মারুফ মৃধা। এরপর আক্রমণে এসে উইকেট নেয়ার দায়িত্ব নিলেন রোহানাত দৌলত বর্ষন।আমিরাতের পরের তিন উইকেট নেন বর্ষন।তারপর আক্রমণে এসে দায়িত্বটা নেন ইকবাল হাসান ইমন।পরের দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইমন সেই দায়িত্ব পালন করে বাকি দায়িত্ব দেন পারভেজ রহমান জীবনকে।জীবনও হুবহু চিত্রনাট্য মেনে পরের দুই উইকেট তুলে নেন।শুরু হয়েছিলো মারুফের মাধ্যমে,আমিরাতের শেষ উইকেট তুলে নিয়ে মারুফ মৃধাই সমাপনী টানেন। একটি দলের সব বোলারই যদি অমন উইকেট শিকারের নেশায় মেতে ওঠেন,তখন প্রতিপক্ষ দলের অবস্থা যা হবার তাই হয়েছে। ২৪.৪ ওভারে ৮৭ রানে অলআউট হয়ে ১৯৫ রানে হেরে রানারআপ হয়েছে আরব আমিরাত।তাঁদের ক্রিকেট ইতিহাসে এটাও অনেক বড়ো সাফল্য হিসেবেই বিবেচিত হবে নিশ্চয়ই।একদিন আমিরাতের এই যুবারাই হয়তো আরও অনেক সাফল্য এনে দিবে তাঁদের দেশকে। অনবদ্য ব্যাটিংয়ের জন্য অনুমিত ভাবেই ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন সেন্চুরীয়ান আশিকুর রহমান শিবলী। সংক্ষিপ্ত স্কোর:- বাংলাদেশ ২৮২/৮(৫০) শিবলী ১২৯, রিজওয়ান ৬০,আরিফুল ৫০।আয়মান ৪/৫২। আরব আমিরাত:- ৮৭/১০(২৪.৫) ধ্রুব প্রসার ২৫*, মারুফ মৃধা ৩/২৯,বর্ষন ৩/২৬,ইমন ২/১৫, জীবন ২/৭। ফলাফল:-বাংলাদেশ ১৯৫ রানে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন। ম্যান অফ দ্য ফাইনাল:-আশিকুর রহমান শিবলী। ম্যান অফ দ্য টূর্নামেন্ট:- আশিকুর রহমান শিবলী।
