কিশোর অপরাধ দেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা। দেশের বিদ্যালয়গামী শিশু-কিশোর বিভিন্ন সময় বিবিধ অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অ-মনযোগিতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, আক্রমণাতœক আচরণসহ বিবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা লিপ্ত হচ্ছে বিবিধ অপরাধমূলক কার্যে। অপরাধমূলক কাজে ধরণ হিসেবে পিতা-মাতার অবাধ্যতা, পকেটমার, পর্ণ ছবি দেখা, বাড়ী থেকে নিরুদ্দেশ, ধুমপান করা, নাশকতামূলক কর্মে লিপ্ত, উশৃঙ্খল আচরণ, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, টিকটক ভিডিও প্রস্তুত, স্কুল পলায়ন, মাদকাসক্তি, ছিনতাই, চুরিসহ বিবিধ অপরাধে জড়িত হওয়া ইত্যাদি লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে অকালেই বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়ছে এবং শিক্ষার্থীর শিক্ষাকালে ঘটছে বিপর্যয়।
জানা যায়, সরকারি কর্মের কার্য বন্টন অনুযায়ী সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের এ কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ভবঘুরে ও ভিক্ষা বৃত্তি নিরসনে দায়িত্ব প্রাপ্ত দপ্তর। -এ প্রেক্ষিতে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশে বিবিধ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এ মন্ত্রণালয়ের একটি অন্যতম উইং হিসেবে সমাজ সেবা অধিদপ্তর মাঠ পার্যায়ে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুা আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুদের জন্য প্রবেশন ও আফটার কেয়ার সার্ভিস পরিচালনা করে চলেছে। এ সমাজ সেবা অধিদপ্তর ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকালীন প্রতিবন্ধকতা নিরসনকল্পে “কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধকল্পে বিদ্যালয় সমাজ কর্ম ব্যবস্থা প্রবর্তন” শীষর্ক একটি পাইলটিং প্রকল্প গ্রহণ করে। এ ধারাবাহিকতায় বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় সীমিত পরিসরে এ পাইলটিং প্রকল্পের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজ সেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ এ পাইলটিং কার্যের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কাপাস গোলা সিটি কর্পোরেশন বিদ্যালয় (বালিকা) ও ছাফা মোতালেব হাই স্কুল এবং বান্দরবান জেলার ছালে আহাম্মদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চলছে। এদিকে গত বুধবার চট্টগ্রাম জেলার চান্দগাঁও থানাধীন ছাফা মোতালেব হাই স্কুল প্রাঙ্গনে অভিভাবক ও শ্রেণী শিক্ষকদের নিয়ে পাইলটিং -এর আওতায় গৃহীত সমস্যাগ্রস্থ শিক্ষার্থীর কেইস সমূহ পর্যালোচনা করা হয়। পরবর্তীতে সমস্যাগ্রস্থ ও অপরাধ প্রবণ শিক্ষার্থীদের আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তনের কৌশল হিসেবে করা হয় ‘কাউন্সিলিং। সংগৃহীত কেইস সমূহ নিয়ে শ্রেণী শিক্ষকও অভিভাবক মন্ডলীর অংশ গ্রহণে বিশেষ কাউন্সিলিং পরিচালনার মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্থ শিক্ষার্থীর উন্নয়নে সকল পক্ষের ভূমিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টগণকে অবহিত করা হয়। কাউন্সিলিং কালে পাইলটিং প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ, সংশ্লিষ্ট প্রধানশিক্ষক, শিক্ষকমন্ডলী ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবক মন্ডলী উপস্থিত ছিলেন। পাইলটিং প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত বিদ্যালয় কাউন্সেলরদ্বয় নাহিদা সুলতানা ও ফাহমিদা ইয়াছমিন অভিভাবক ও শিক্ষক মন্ডলীর সাথে কেইস সমূহ নিয়ে কাউন্সেলিং পরিচালনা করেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের ছাফা মোতালেব হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জিয়া উদ্দীন বলেন, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের এ পাইলটিং প্রকল্প চললে আশা করি কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক অবক্ষয় অনেকটা প্রতিরোধ সম্ভব হবে। বিধায় এ প্রকল্পটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহবানও জানান তিনি।

