আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলতে আসা নেপাল। ম্যাচটি আজ শ্রীলঙ্কার মুলতান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে। শক্তির দিক থেকে নেপালের থেকে ঢের এগিয়ে পাকিস্তান। বর্তমানে ওয়ানডে ক্রিকেটে র্যাঙ্কিয়ের সবার উপরে অবস্থান করছে পাকিস্তান।
অন্যদিকে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ১৫ নম্বরে অবস্থান করছে নেপাল। এবারের এশিয়া কাপের আয়োজক ছিল পাকিস্তান, কিন্তু পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাধ্য হয়ে যৌথভাবে এশিয়া কাপ আয়োজন করছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে সফল দল ভারত। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাতবার শিরোপা জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয় বার শিরোপার স্বাদ নেয় শ্রীলঙ্কা। মাত্র দু’বার ট্রফি ঘরে তুলে পাকিস্তান। বেশ কিছু দিন যাবত ওয়ানডে ফরম্যাটে সেরা দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া বাংলাদেশ তিনবার ফাইনালে উঠলেও শিরোপার দেখা পায়নি টাইগাররা। ১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের প্রত্যেক আসরেই অংশ নেয়া একমাত্র দল শ্রীলঙ্কা। এশিয়া কাপে একবার করে অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ দল।
এ বছরের শেষ দিকে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ মাথায় রেখে এবারের এশিয়া কাপ ৫০ ওভারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের ফরম্যাট হিসেবে এশিয়া কাপ আয়োজনের সিদ্বান্ত নেয় আয়োজকরা। এজন্য ২০১৬ এবং ২০২২ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের বছরে এশিয়া কাপ সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিশ্বকাপের জন্য দলগুলোকে সেরা প্রস্তুতির মঞ্চ তৈরি করে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ওয়ানডে ফরম্যাটে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে লিটন দাসের অসাধারণ সেঞ্চুরি সত্তে¡ও শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে হার এড়াতে পারেনি টাইগাররা। সর্বশেষ ২০২২ সালে টি-২০ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত আসরের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। তাই টি-২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে এশিয়া কাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে নেপাল।
একমাত্র নেপাল ছাড়া বাকি পাঁচ দলই আগামী বিশ্বকাপে খেলবে। এজন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে ভুলত্রুটি শুধরে নিতে এবারের টুর্নামেন্টটি সব দলের জন্যই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিরোপা জয়ের প্রশ্নে ফেবারিট হিসেবে কাগজে-কলমে সবচেয়ে শক্তিশালী দল ভারত। অবশ্য দেরিতে হলেও বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে অন্তত ওয়ানডে ফরম্যাটে যেকোনো দলের বিপক্ষে যেকোনো কন্ডিশনে জিততে পারে তারা। এদিকে আবার ঐতিহাসিকভাবে এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে খুব একটা সফল দল বলা যাবে না। আবার ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ হিসেবে পরিচিতি থাকায় তাদেরকে আলোচনার বাইরেও রাখা যাচ্ছে না। তাছাড়া বাবর আজমের অসাধারণ নেতৃত্বগুণের কারণে বিশ্ব ক্রিকেটে বেশ উজ্জীবিত হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে পাকিস্তান।
ওয়ানডে ফরম্যাটের ক্রিকেটে আফগানিস্তানের ধারবাহিকতায় ঘাটতি আছে। তবে নিজেদের দিনে বিশ্বের যেকোনো দলকে হারানোর যোগ্যতা রয়েছে তাদের। আফগানদের ব্যাটিংয়ে গভীরতার ঘাটতি রয়েছে। তবে রশিদ খানের নেতৃত্বে বিশ্বমানের স্পিনারদের নিয়ে ওই ঘাটতি পূরণ করার দক্ষতা রয়েছে দলটির।
টুর্নামেন্টে অংশ নেয়াদের মধ্যে নেপাল এমন একটি দল, যারা যেকোনো দলকে হারাতে পারলেই সন্তুষ্ট। তবে এটি নিশ্চিত নেপালের বিপক্ষে ম্যাচকে নিজেদের প্রস্তুতি ম্যাচের অংশ হিসেবেই নেবে উপমহাদেশের দুই ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান। তবে ২০১৮ সাল থেকে ওয়ানডে ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ছয় দলের মধ্যে সবচেয়ে সফল হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ। বিগত ৫ বছরের পরিসংখ্যানে ভারতের জয়ের হার ৬১.৯০ শতাংশ। এই সময়ে মোট ৮৪টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ভারত জয় পেয়েছে ৫২টি ম্যাচে। অপরদিকে বাংলাদেশের জয়ের হার ৫৯.০৯ শতাংশ। ৬৬টি ম্যাচ খেলে ৩৯টিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা। ৫৭টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ৩০ ম্যাচে জয় পাওয়া পাকিস্তানের জয়ের হার ৫২.৬৩ শতাংশ। ৭১ ম্যাচে অংশ নিয়ে শ্রীলঙ্কা জয় পেয়েছে ৩১টি ম্যাচে, জয়ের হার ৪৩.৬৬ শতাংশ। আফগানিস্তানের জয়ের হার ৪০.৯০ শতাংশ। তারা ৪৪টি ম্যাচ খেলে জিতেছে ১৮টিতে। আসন্ন টুর্নামেন্টে কোনো একটি দলকে ফেভারিট বলতে রাজি নন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরাম।
তিনি বলেছেন, সবগুলো দলের জন্যই এই টুর্নামেন্টটি বেশ কঠিন হবে। সেইসঙ্গে তিনি এটিও বলেছেন, আসরে হাল্কাভাবে নেয়া যাবে না বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকেও। কারণ ট্রফি জয়ের মতো ক্ষমতা দুই দলেরই রয়েছে। এক অনুষ্ঠানে আকরাম সাংবাদিকদের বলেন, গতবার আমাদের ধারণা ছিল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলবে ভারত ও পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করল শ্রীলঙ্কা। তিনটি দলই বিপজ্জনক। যেকোন দলই শিরোপা জয় করতে পারে।’
এশিয়া কাপের সূচি : গ্রুপ পর্ব :
৩০ আগস্ট : পাকিস্তান-নেপাল, মুলতান
৩১ আগস্ট : বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, ক্যান্ডি
২ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তান-ভারত, ক্যান্ডি
৩ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ-আফগানিস্তান, লাহোর
৪ সেপ্টেম্বর : ভারত-নেপাল, ক্যান্ডি
৫ সেপ্টেম্বর : আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কা, লাহোর
সুপার ফোর :
৬ সেপ্টেম্বর : এ১-বি২, লাহোর
৯ সেপ্টেম্বর : বি১-বি২, কলম্বো
১০ সেপ্টেম্বর : এ১-এ২, কলম্বো
১২ সেপ্টেম্বর : এ২-বি১, কলম্বো
১৪ সেপ্টেম্বর : এ১-বি১, কলম্বো
১৫ সেপ্টেম্বর : এ২-বি২, কলম্বো
ফাইনাল :
১৭ সেপ্টেম্বর : ফাইনাল, কলম্বো

