নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুসলিম নগর কে এম উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি এম এ মান্নান ও ঐ স্কুলে শিক্ষকতা করা রোমানা ফৌজিয়া দুলারীর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক গুন্জন চলছিলো গত কিছুদিন ধরেই।গুন্জনকে সত্যি প্রমান করে এবার পালিয়ে যান দুজন।আর এনিয়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এম এ মান্নানকে স্কুলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবীতে মিছিল বের করেন।অন্যদিকে ব্যক্তির অনৈতিক সম্পর্কের কারণে দলীয় ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ায় থানার শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন মিডিয়াকে।ইতিমধ্যে গতকাল স্কুল কর্তৃপক্ষ জরুরী সভা শেষে এম এ মান্নানকে পরিচালনা পর্ষদ সভাপতির পদ থেকে অপসারণের ঘোষণা দেন। একই সাথে শিক্ষিকাকে শোকজ করার কথা জানান। সরেজমিনে ফতুল্লা থানাধীন মুসলিম নগর ও আশেপাশের এলাকায় গিয়ে জানা যায়,মান্নান ও দুলারী দুজনেরই সংসার আছে।এ বছরই দুলারী তাঁর স্বামী এডভোকেট আবু তাহেরের সঙ্গে হজ্ব করে আসেন। আবার মান্নানও এ বছরই হজ্ব করেন।হজ্ব শেষে দেশে ফেরার কয়েকদিন পরেই দুজন পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন।যা দুই পরিবার সহ মানুষের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। মুসলিমনগর কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম ইব্রাহিম এই প্রতিবেদককেজানান,কয়েকদিন ধরে আমাদের স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও এক শিক্ষিকাকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।কয়েকদিন আগে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এমএ মান্নান শিক্ষিকা রোমানা ফৌজিয়া দুলারীকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে ঘুরতে যায়।স্বামী-স্ত্রী রেখে তারা উভয়ে পরকীয়ায় আসক্ত হয়েছেন।যা স্থানীয় মানুষকে বিক্ষুব্ধ করেছে।এমনকি তাঁরা মিছিল মিটিংও করেন।এ নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকবৃন্দ গতকাল দীর্ঘসময় সভা করে দুজনের বিষয়ে পৃথক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।স্কুলের সুনাম রক্ষার্থে সভাপতির পদ থেকে মান্নানকে অব্যাহতি প্রদান ও শিক্ষিকা দুলারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী জানান,এমএ মান্নান ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি একটি স্কুলের শিক্ষিকার সঙ্গে পরকীয়া করেন এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহ থানা আওয়ামী লীগ দেখছে।দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এমএ মান্নানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে বলে জানান তাঁরা। অভিযুক্ত দুজনেই এলাকায় অবস্থান করছেন জেনে এম এ মান্নানকে ফোন দিলে মান্নান বলেন,ছোট থেকে আমি দুলারিকে ভালোবাসি।অন্যরা যদি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে তাহলে আমি করলে দোষের কি? তবে শিক্ষিকা রোমানা ফৌজিয়া দুলারীকে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করলেও কোনো মন্তব্য করেননি।
বিষয়টি নিয়ে মানুষের মাঝে নানান মুখরোচক গল্প করতে শোনা যায়।অনেকে বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, কয়দিন আগে স্বামীর সাথে হজ্ব করে এসে দুলারী কিভাবে পারলেন এতোবড় বেঈমানী করতে নিজ স্বামীর সাথে?

