আকাশের মতোই আচমকা রং বদল,নিশ্চিত জয়ের পথে থাকা দলেরই দুই ওভারের ম্যাজিকে খাদের কিনারে চলে যাওয়া,পরাজয়ের চোখ রাঙানী ও ম্যাজিক্যালি কামব্যাক করে জয়ের ঘ্রান পেতে থাকা দলের উল্টো দুই ওভারের ট্রাজিক রুপ দর্শন।এমনই ঘন ঘন রং বদল ও থ্রিলারের পসরা সাজিয়ে বসেছিলো আজ প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় টি টোয়েন্টি ম্যাচে।উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ভারতকে দুই উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেলো স্বাগতিক ওয়েষ্ট ইন্ডিজ।
টস জিতে নিজেরা আগে ব্যাট করতে নামা ভারত তিলক ভার্মার ফিফটিতে নির্ধারিত বিশ ওভার শেষে সাত উইকেটে ১৫২ রান করতে সমর্থ হয়।ভারতীয় কোন ব্যাটারকেই চড়াও হবার সুযোগ দেয়নি ক্যারিবিয় বোলার ও ফিল্ডাররা।কেবল তিলক ভার্মা ছাড়া আর কেউ নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি।তাঁর ৫১ রানের ইনিংসের জন্য দলের সংগ্রহ দেড়শো পার হয়।
উইন্ডিজের কোন বোলার একক সাফল্য না পেলেও সব বোলারই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন।আকিল হোসেন,আলজেরী যোসেফ ও শেফার্ড দুটো করে উইকেট নেন। ১৫৩ রানের লক্ষ্যে নেমে হার্দিক পান্ডিয়ার করা প্রথম ওভারের প্রথম বলেই উইকেট হারায় ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। ঐ ওভারের চতুর্থ বলে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে২/২ এ পরিণত হয় তাঁরা।পরের ওভারে কাইল মেয়ার্স আর্শদীপ সিংয়ের উপর চড়াও হলেও তাঁকে বেশি বাড়তে দেননি আর্শদীপ সিং।নিজের দ্বিতীয় ওভারে মেয়ার্সকে আউট করে ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে ৩২/৩ এ পরিণত করেন।কিন্তু নিকোলাস পুরান ও রোভম্যান পাওয়েল পাল্টা আক্রমণ করে ৪৭ রানের জুটি গড়েন।দলীয় ৮৯ রানে পাওয়েল আউট হয়ে গেলে শিমরন হেটমেয়ার পুরানের সাথে জুটি গড়েন।নিকোলাস পুরান তখন রীতিমতো খুনে মেজাজে ব্যাট করছিলেন।চৌদ্দতম ওভারের শেষ বলে ব্যক্তিগত ৬৭(৪০ বলে) রানে পুরান যখন আউট হয়ে ফিরেন উইন্ডিজের রান তখন পাঁচ উইকেটে ১২৬।তাঁদের সামনে সমীকরণ তখন ৩৬ বলে ২৭ রান দরকার।হাতে পাঁচ উইকেট।নিশ্চিত জয়ের পথে ক্যারিবিয়রা।তখনই রং বদলের শুরু।১৫ তম ওভারে মাত্র এক রান দেন রবি বিষ্ণু।১৬ নম্বর ওভার করতে এসে যুযবেন্দ্র চাহাল একটি রান আউট সহ তিন উইকেট তুলে নেন দুই রান খরচায়।বিশেষ করে স্বীকৃত ও সেট ব্যাটার হেটমেয়ারকে ওভারের শেষ বলে আউট করে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন।দুই ওভারে তিন রানে তিন উইকেট হারিয়ে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ পরিণত হয় আট উইকেটে ১২৯ এ।সমীকরণ দাঁড়ায় ২৪ বলে ২৪ রান।হাতে দুই উইকেট। আকিল হোসেন ও আলজেরী জোসেফ বোলার হিসেবে পরিচিত।তখন উইন্ডিজের পক্ষে বাজি রাখতে চাইবেন না কোন পাঁড় ভক্তও।কিন্তু নিয়তি এবার দুই ওভারের উল্টো রুপটি দেখালো ভারতকে।১৭তম ওভারে মুকেশ কুমার মাত্র তিন রান দিয়ে সমীকরণ বানিয়ে দেন ১৮ বলে ২১ রানের।১৮তম ওভারে ৯ রান আসে জোসেফের ছক্কার কল্যানে।
১২ বলে ১২ রান।১৯ তম ওভারে আর্শদীপ সিংয়ের প্রথম পাঁচ বল থেকেই ১৪ রান তুলে নিয়ে ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে স্মরণীয় এক জয় এনে দেন আকিল ও জোসেফ। নিয়তির খেয়ালে ব্যাটার বনে যাওয়া দুজনের ১৭ বলে ২৬ রানের জুটিটা ছিলো এককথায় অবিশ্বাস্য।টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে বাজে ভাবে হারা দলটি এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেলো। সংক্ষিপ্ত স্কোর:- ভারত ১৫২/৭(২০), তিলক ভার্মা ৫১। ওয়েষ্ট ইন্ডিজ:- ১৫৫/৮(১৮.৫) নিকোলাস পুরান ৬৭, পান্ডিয়া ৩/৩৫, চাহাল ২/১৯। ফলাফল:- ওয়েষ্ট ইন্ডিজ দুই উইকেটে জয়ী। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:- নিকোলাস পুরান।

