সিলেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত পনেরো হাজার দর্শক তো বটে,দেশ বিদেশের যাঁরাই টিভি বা মোবাইলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আজকের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেখতে বসেছিলেন সকলেই অদ্ভুত এক অনুভূতির সাক্ষী হয়েছেন।আনন্দ থেকে আতংক তারপর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ও আনন্দ নিয়ে ঘরে ফেরা।সবকিছুই ঘটেছে ম্যাচের শেষ ওভারের প্রথম পাঁচ বলে।ক্রিকেটকে কেনো গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলা হয় তাঁর বড় একটি উদাহরণ হয়ে থাকলো আজকের ম্যাচটি। শেষ ওভারে তথা ছয় বলে ছয় রানের সমীকরণ নিয়ে মেহেদী মিরাজ ষ্ট্রাইক নেন।হাতে পাঁচ উইকেট।
নন ষ্ট্রাইকে জয়ের নায়ক তৌহিদ হৃদয়।করিম জানাতের প্রথম বলটিতে বাউন্ডারি হাঁকান মিরাজ।পাঁচ বলে দুই রান দরকার।পরের বলে মিরাজ আউট হয়ে যান নবীর অসাধারণ ক্যাচ হয়ে।তাসকিন আসেন চার বলে দুই রানের সমীকরণ নিয়ে।ওভারের তৃতীয় বলে তাসকিনকেও আউট করে গ্যালারীকে হঠাৎই চুপ করিয়ে দেন করিম জানাত।তিন বলে দুই রানের সমীকরণ নিয়ে নাসুম আসেন উইকেটে।হ্যাট্রিকের হাতছানি করিম জানাতের সামনে।সকলের প্রত্যাশা একটি সিঙ্গেলস।তৌহিদের ষ্ট্রাইক।নাসুম চাইলেন তিনিই চার মেরে জিতিয়ে দিবেন।বিগ হিট নিতে গিয়ে আউট হয়ে করিম জানাতকে হ্যাট্রিক আর দর্শকদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে যান নাসুম।মাত্রই তিনদিন আগে আমাদের মেয়েরা এক রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে অবিশ্বাস্য ভাবে জেতা ম্যাচ হেরেছিলো ভারতের কাছে। পাহাড় সমান চাপ নিয়ে উইকেটে আসেন শরীফুল। যেনো জেদ নিয়েই মারলেন বল।কভার দিয়ে বল চলে গেলো বাউন্ডারির বাইরে।আতংক আনন্দ হয়ে ফিরে এলো।এক বল হাতে রেখে দুই উইকেটে জিতলো বাংলাদেশ।সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টসও জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান।ইনিংসের ১৫ ওভার পর্যন্ত বোলাররা চাপে রাখতে পারলেও শেষ পাঁচ ওভারে নবী-ওমরজাই চড়াও হলে আফগানিস্তানের স্কোর বিশ ওভারে ১৫৪/৭ শেষ হয়।নবী ৪০ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন।ওমরজাই ১৮ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন। কোন বাউন্ডারি ছিলোনা,শুধু চারটি ছক্কা ছিলো তাঁর ইনিংসে।
২৭ রানে দুই উইকেট নেন সাকিব। ১৫৫ রানের লক্ষ্যে নেমে দলীয় পাঁচ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।এগারো নম্বর ওভারের প্রথম বলে সাকিব আউট হলে ৬৪/৪ এ পরিণত হয় বাংলাদেশ।পরাজয় চোখ রাঙাচ্ছিলো তখন।উইকেটে দুই তরুণ তৌহিদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারী।৫৯ বলে ৯১ রান।তারচেয়ে বড়ো কথা রশিদ খাঁনের তখনো তিন ও মুজিবের এক ওভার বাকি।দুই তরুণ ৭৩ রানের সাহসী জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান।শামীম পাটোয়ারী যখন আউট হন তখন ১৬ বলে ১৮ রানের সমীকরণ ছিলো।যা শেষ ওভারে ছয় বলে ছয় রানে এসে ঠেকে।আর সেই গল্পতো রিপোর্টের শুরুতেই জানিয়েছি। সংক্ষিপ্ত স্কোর:-আফগানিস্তান ১৫৪/৭(২০) নবী ৫৪*, ওমরজাই ৩৩, সাকিব ২/২৭। বাংলাদেশ ১৫৭/৮(১৯.৫) তৌহিদ হৃদয় ৪৭*,শামীম ৩৩, করিম জানাত ৩/১৫। ফলাফল:-বাংলাদেশ দুই উইকেটে জয়ী। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:-তৌহিদ হৃদয়।

