উদ্বেগজনক সংক্রমণের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামে চলে স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া। কেন্দ্রে কেন্দ্রে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের। শনিবার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাইকিং করে বারবার অভিভাবকদের টিকা কেন্দ্রে ভিড় না করে দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা। কিন্তু তারপরও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির তোয়াক্কা ছিল না অভিভাবকদের। সামাজিক দূরত্বের লেশমাত্র ছিল না কেন্দ্রগুলোতে।
চট্টগ্রাম রেড ক্রিসেন্টের স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগীয় উপ প্রধান মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করাটা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। টিকা কেন্দ্রে এত অভিভাবক না আসলেও পারত। যদি প্রত্যেক স্কুল থেকে ৫ জন করে শিক্ষক আসত এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিতো তাহলে এতটা ভিড় হতো না আর এত ঝামেলা ও হতো না। শনিবার প্রথম ডোজের পাশাপাশি বেশ কিছু কেন্দ্রে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। টিকা নিতে পেরে সন্তুষ্টি ছিল শিক্ষার্থীদের।
এদিকে চট্টগ্রামে ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৫টি স্কুলের পাশাপাশি ৪টি কমিউনিটি সেন্টার ও স্টেডিয়ামে টিকা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই কার্যক্রম শেষ হয়েছে গত শনিবার। তবে তালিকায় থাকলেও অন্তত ২০ হাজার শিক্ষার্থী টিকা দিতে কেন্দ্রে কিংবা স্কুলে আসেনি। চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগর ও উপজেলা মিলিয়ে ১২-১৮ বছরের শিক্ষার্থী আছে ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭২ জন। তাদের মধ্যে শনিবার পর্যন্ত ৮ লাখ ১০ হাজার ৮১২ জন শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে। আগামী দুদিন বেশ কিছু উপজেলাতেও টিকা দেওয়া হবে। তবে নগরে আপাতত টিকা দেওয়া কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

