চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের আয়োজনে ১০ দিনব্যাপী ৩৭তম আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল হাজারো দ্বীনদার আহলে বায়তপ্রেমী মানুষের অংশগ্রহণে বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার মাহফিলের তৃতীয় দিনে শ্রীলংকার আল্লামা শাহসূফী এহছান ইকবাল কাদেরী বলেছেন, দুনিয়ার ইতিহাসে নির্মম ট্র্যাজেডি কারবালা। যেটি চেঙ্গিস, হালাকু ও হিটলারের বর্বরতাকেও হার মানায়। আজ আধুনিক সভ্য বিশে^র দেশে দেশে কারবালার ন্যায় জঘন্য নির্মমতা চলছে নিরীহ দেশ ও মানুষের ওপর। পৃথিবীটাই যেন আজ উত্তপ্ত কারবালা। শক্তিশালী দেশগুলো দুর্বল দেশের ওপর হায়েনার মতো হামলে পড়ছে। এই বিভীষিকা থেকে মুক্তি পেতে কারবালার চেতনায় আত্মশক্তিতে জেগে ওঠে বিশ্বের নিপীড়িত মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সম্মানিত ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মহসিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চেয়ারম্যান এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ¦ সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) প্রতি অসীম ভক্তি শ্রদ্ধা মুহাব্বতের বহিঃপ্রকাশ এ শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। পার্থিব শান্তি ও পরকালীন অনন্ত জগতের নাজাতের জন্য আমরা এ ধরনের মাহফিল আয়োজন করে আসছি। মিশর থেকে আগত বিশ^নন্দিত ক্বারী শায়খ আহমদ আহমদ নায়না এবং বাংলাদেশের শায়খ আহমদ বিন ইউসুফ আল আজহারী কুরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন। সুললিত কণ্ঠে কুরআন মজিদের তেলাওয়াত শুনে শ্রোতাদের মাঝে ভিন্ন আধ্যাত্মিক আবহ ছড়িয়ে পড়ে। নবীপ্রেমই ঈমান নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি আহমদ হোসাইন আলকাদেরী।
তিনি বলেন, নবীপ্রেম ছাড়া পার্থিব কল্যাণ ও আখিরাতে নিষ্কৃতি মিলবে না। নবীপ্রেমই ঈমানের প্রতীক ও চাবিকাঠি। শহীদ ও শাহাদাতের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করেন নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা এনামুল হক সিকদার। তিনি বলেন, যাঁরা দ্বীন ইসলামের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেন তাঁরাই হচ্ছেন শহীদ। শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে শহীদগণ বার বার আল্লাহর কাছে এই বলে আর্তি জানান, হে আল্লাহ আমাকে আবারো জীবন ফিরিয়ে দিয়ে দুনিয়ায় পাঠাও, যাতে আমি আবারো শহীদের মর্যাদা পেতে পারি। হযরত মা ফাতেমার পর্দা ও বর্তমান নারী সমাজ নিয়ে আলোচনা করেন, আশেকানে আউলিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক আল্লামা ইউসুফ আলকাদেরী।
তিনি বলেন, মা ফাতেমা হচ্ছেন নারী জাতির আদর্শ। পর্দা ও শালীন জীবন যাপনের মধ্যেই নারী জাতির সত্যিকার মর্যাদা ও মুক্তি নিহিত।
মাহফিলে অতিথি ছিলেন, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ পেয়ার মুহাম্মদ, আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ¦ মুহাম্মদ সিরাজুল হক, আনজুমান রিচার্স সেন্টারের মহাপরিচালক আল্লামা এম এ মান্নান, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়ার প্রভাষক আল্লামা আবুল হাশেম শাহ ও মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক আলী হোসেন সোহাগ, সমাজসেবক দিদারুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।
তাছাড়া শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন দরবারের সাজ্জাদানশীন ও আওলাদবৃন্দ, বিভিন্ন মসজিদের খতিব ও ইমামবৃন্দ, বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীগণ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। সালাত সালাম শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ ও বিশে^র নির্যাতিত মানবতার মুক্তি কামনায় মুনাজাত করা হয়।

