ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে ভুয়া বাই-মুরাবাহা ডিলের(ঋণ) মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদি হয়ে চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম একেএম মারুফ ও এজিএম এবং ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ কর্মকর্তা মামলার আসামি হয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করেন। আরামিট গ্রুপের কর্মচারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী দেখিয়ে ক্লাসিক ট্রেডিং নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে মালামাল সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অথচ ওই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো মালামাল সরবরাহ করা হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৭ সালে আরামিট সিমেন্টের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের পর বিভিন্ন সময়ে ভুয়া বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে ঋণের অর্থ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ডিলের বিপরীতে ভুয়া ইনভয়েস ও অন্যান্য কাগজপত্র ব্যাংকে দাখিল করা হয়। পরে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করে আরামিট সিমেন্টের হিসাবে জমা করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যালয় বা গুদামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি-রপ্তানিরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দুদকের অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে আসার পর আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

