শুক্রবার এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক জাপানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বর্তমান সোনাজয়ী ভারত। মাত্র পাঁচ ওভারে ৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে সহজেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে তারা।
জাপান অবশ্য খালি হাতে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয়নি। যতটা সম্ভব পুরো ২০ ওভার ব্যাট করার চেষ্টা, উইকেটের মাঝে দৌড় এবং ফিল্ডিং- সব মিলিয়ে তাদের পারফরম্যান্সে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। তবে ভালো শুরুর পর ১৯.৫ ওভারে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা, ফলে ভারতের সামনে বড় কোনো লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারেনি।
টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া ভারত বাউন্সি পিচের পুরো সুবিধা কাজে লাগিয়ে জাপানকে খুব বেশীদুর এগুতে দেয়নি। আক্রমণের নেতৃত্ব দেন শ্রী চারানি। তিনি আবারও চার উইকেট নিয়ে দারুণ ফর্ম অব্যাহত রাখেন। এর আগে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনালে ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সপ্তম ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট নেন চারানি। ওপেনার হারুনা ইওয়াসাকিকে ১০ রানে ফেরানোর পর অধিনায়ক মাই ইয়ানাগিদাকে শূন্য রানে আউট করেন তিনি। তবে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি।
ইওয়াসাকি ও আয়াকা কাতো-স্ট্যাফোর্ড উদ্বোধনী জুটিতে ২৪ রান যোগ করেছিলেন। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি জাপান। ৪৭ বলে ২৫ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান করেন কাতো-স্ট্যাফোর্ড, আর ইওয়াসাকি করেন ২২ বলে ১০ রান। শেষ আট উইকেট মাত্র ৩৩ রানে হারায় জাপান।
চারানি ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। শেফালি ভার্মা ১৩ রানে ২ এবং দীপ্তি শর্মা ১৪ রানে ১ উইকেট নেন।
জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গোড়ালির লিগামেন্টে চোট পাওয়ার তিন মাস পর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ৩.৫ ওভারে ৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। পাতিল নোনোহা ইয়াসুমোতোকে শূন্য রানে বোল্ড করলে জাপানের ইনিংস শেষ হয়।
৫৮ রান তাড়া করতে নেমে শেফালি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। প্রথম ওভারেই চারটি বাউন্ডারি মেরে জাপানের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। স্মৃতি মান্ধানার পরিবর্তে ওপেন করতে নামা জি কামালিনি এবং তিন নম্বরে নামা ভারতী ফুলমালি যথাক্রমে লং-অন ও পয়েন্টে হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।
লং-অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন শেফালি। মাত্র ১৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা; স্ট্রাইক রেট ২৬৬.৬৬। ১৫ ওভার হাতে রেখেই জয় পায় ভারত।

