মহেশখালীতে এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। টার্মিনালটি কার্যক্রম শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সরবরাহে আরেক দফা সংকট তৈরি হলো।
পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, আজ বুধবার বিকেল ৩টার দিকে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে সামিটের এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এটিসহ দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। যেখানে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
গত সপ্তাহের তীব্র গ্যাস সংকটের তুলনায় সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও আবারও এই বিপর্যয় ঘটল। ইতোমধ্যেই শিল্পকারখানাগুলো কম চাপের গ্যাস নিয়ে সমস্যায় রয়েছে এবং সরবরাহ করা গ্যাসের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দেওয়া হচ্ছে।
প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহে সক্ষম এক্সিলারেট পরিচালিত এফএসআরইউটি ২১ জুলাইয়ের অগ্নিকাণ্ড ও পরবর্তী কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ ছিল। ৬ আগস্ট আংশিকভাবে কার্যক্রম শুরু করলেও ১৪ আগস্ট আবারও এর কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং ১৫ আগস্ট পুনরায় চালু হয়।
তবে কর্মকর্তাদের মতে, টার্মিনালটির এলএনজির মজুত এখন শেষ হয়ে গেছে।
সামিট ও এক্সিলারেটের এফএসআরইউ সম্মিলিতভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি রূপান্তর করতে পারে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে।
সর্বশেষ এই পরিস্থিতির ফলে এক্সিলারেটের টার্মিনালে নতুন এলএনজির চালান পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আমদানি করা এলএনজির জন্য বাংলাদেশ আবারও পুরোপুরি সামিটের টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, সরকারের এলএনজি ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩ আগস্টের আগে এক্সিলারেটের টার্মিনালটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

