দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এতদিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থা মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছিল। নতুন নীতিমালায় এ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী দিনে সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
আজ চট্টগ্রামে পিটিআই অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র যাচাই করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ২৫টি উপজেলার বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতার হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।
এ ধরনের তথ্যের গরমিল দূর করে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর শিক্ষা প্রশাসনকে পরিচালনা করতে হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় শূন্যপদে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী বছর দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাধারণ জ্ঞান বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে, যা টেলিভিশন শো হিসেবেও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আনন্দময়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিখন, উপস্থিতি, পুষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ সবকিছুর ওপর সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি অঙ্গীকার পরিষ্কার আনট্রেইনড কোনো শিক্ষককে আমরা শ্রেণিকক্ষে দেখতে চাই না। সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের মান, প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সক্ষমতা ভবিষ্যৎ মনিটরিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
উল্লেখ্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসনে সুশাসন, জবাবদিহি ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নিজেই বিভাগে বিভাগে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের প্রস্তুত করাই এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভাগের শিক্ষা প্রশাসনের সব কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

