শহরের বিভিন্ন পার্ক, রাস্তার মোড়, স্কুলের আশপাশ কিংবা খাবারের দোকানে এখন প্রায়ই দেখা যায় স্কুল ইউনিফর্ম পরা কিশোর-কিশোরীদের ধূমপান করতে। বিষয়টি শুধু সামাজিক অবক্ষয়েরই নয়, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি নগরীর জামালখানে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ ঘুরে দেখা যায়, টিফিন কিংবা স্কুল শেষে কিছু শিক্ষার্থী দলবেঁধে সিগারেট খাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দোকানিরা বয়স যাচাই না করেই শিক্ষার্থীদের কাছে সিগারেট বিক্রি করছেন। যদিও আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর বয়সে ধূমপানের প্রতি আকর্ষণের পেছনে রয়েছে বন্ধুদের প্রভাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধূমপানকে “স্টাইল” হিসেবে উপস্থাপন, পারিবারিক অস্থিরতা এবং সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে সহজলভ্য সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যও তাদের উৎসাহিত করছে।চিকিৎসকদের ভাষ্য, অল্প বয়সে ধূমপান শুরু করলে ফুসফুসের ক্ষতি, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে এটি মাদকাসক্তির দিকেও ঠেলে দিতে পারে। কিশোর বয়সে নিকোটিনের আসক্তি তৈরি হলে তা থেকে বেরিয়ে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শুধু আইন করলেই হবে না; পরিবার, স্কুল ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক যোগাযোগ এবং ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।
পাশাপাশি স্কুলের আশপাশে তামাক বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সচেতন মহলের দাবি, কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে ধূমপানের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সামাজিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
