বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জারুল তলায় এ আলোচনা শুরুর পর এক পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতারা মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন। এ সময় সেখানে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পরে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় অনুষ্ঠান।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য অধ্যাপক শামীমের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। গত রোববার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য বলেছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল, এ কথা অবান্তর।
তার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে রাতে বিজয় দিবসের কারণে সেই কর্মসূচি শিথিল করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্যে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে স্মারক ভাস্কর্য চত্বর থেকে একটি বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি অগ্রণী ব্যাংক, প্রশাসনিক ভবন এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ (পুরাতন) প্রদক্ষিণ করে জারুলতলায় গিয়ে শেষ হয়।
এরপর সেখানে শুরু হয় আলোচনা সভা। সভার শুরুতে কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়।
এ সময় চব্বিশের জুলাই মাসে শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্য চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান বয়কট করতে মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে এলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ সময় মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন ছাত্রদল প্যানেল থেকে চাকসুর এজিএস নির্বাচিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এবং হল ও হোস্টেল সংসদের নয় প্রতিনিধি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী ও শিক্ষকরা এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে আবার আলোচনা শুরু হয় এবং কোনো গোলযোগ ছাড়াই তা শেষ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর সঞ্চলনায় এ অনুষ্ঠানে চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলোকে বলতে চাই, যে পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনিরাপদ মনে করে, এমন পরিবেশ তৈরি করবেন না। হাসপাতালের বিছানায় যখন মামুন কাতরাচ্ছে, তখন ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ে এসে আমাদেরকে কী বোঝাতে চান? আমাদের এখানে সাধারণ শিক্ষার্থী আছে, কর্মচারী-কর্মকর্তা আছে। আমি প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য।
উপ- উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করে আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ১৯৭১ আমাদের বাস্তবতা, আমাদের ইতিহাস এবং আমাদের গর্বের জায়গা। কিন্তু স্বাধীনতার পর নানা কারণে আমরা আমাদের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। সেই অপূর্ণতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে চব্বিশের জুলাই মাসে। আজ সবার প্রতি আমাদের আহ্বান, আমরা যেন আবারও একসাথে কাজ করি। একাত্তরের চেতনা, চব্বিশের বাস্তবতাকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাই।
উপ- উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান করছি।
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার অনুষ্ঠানে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা আমাদের ওপর চলমান অত্যাচারের অবসান ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। তাই ঐক্যই আমাদের প্রধান শক্তি এটি আমাদের অন্যতম বড় অর্জন।
অন্যদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিবসহ অন্যান্য নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।

