বহুল আলোচিত শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডল জামিনে মুক্তি পাবার পর এই প্রতিবেদক এলাকার বাস্তবতা বুঝতে সরেজমিনে চার ঘন্টা মুন্সীগঞ্জ সদরের বিনোদপুর গ্রাম ঘুরে একটি সম্প্রীতি সমাবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন।সেই প্রতিবেদন পৌঁছে দিয়েছিলেন জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট।অবশেষে গত ১৯শে এপ্রিল মঙ্গলবার হৃদয় চন্দ্র মন্ডল প্রথমবার ক্লাসে পাঠদান করেন।পরে সম্প্রীতি সমাবেশ হয়।মুন্সীগন্জ পৌরসভার মেয়র মোঃফয়সাল বিপ্লব ফুলের
মালা জড়িয়ে হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে বরণ করে নেন।হৃদয় মন্ডল বলেন, ছাত্রদের উপর তাঁর কোন অভিযোগ নেই। তাঁদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মাধ্যমে আবার স্বাভাবিকতা এসেছে এলাকায় এতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে কৃতজ্ঞতা জানান।পরদিন ২০ শে এপ্রিল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেন মন্ত্রনালয় মহাপরিচালকের নিকট।

এই প্রতিবেদককে হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হাই তালুকদার(তদন্ত কমিটির একমাত্র সদস্য) জানান,তিনি সশরীরে গিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। চারপৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সাথে পঁচিশ পৃষ্ঠার বিবরণ জমা দিয়েছেন তিনি।তিনি দশ জনের লিখিত,সাত জনের মৌখিক ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর মতামত সংযুক্ত করেছেন। সেই সাথে রেকর্ডিংয়ে জড়িত চারজনের লিখিত ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে।ওরা রেকর্ডিং করে তা প্রধান শিক্ষককে জানানোর আগে সাবেক পরিচালনা কমিটি সদস্য মাহবুবের চাউলের আড়তে গিয়ে তাঁকে অবহিত করে।সার্বিক বিবেচনায় অন্যকারো ইন্ধন রয়েছে বলে জানান প্রতিবেদনে তিনি। একই সাথে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডল নির্দোষ বলে মূল্যায়ন করেন।
উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ১৯ দিন কারাভোগের পর দেশে বিদেশে প্রতিবাদের ঢেউ উঠলে গত ১০ ই এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান তিনি। গত ২০ এপ্রিল তিনি হাজিরা দিয়েছেন।জজ আদালত পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২৫শে মে দিন ধার্য্য করেছেন।

