মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সংগঠন দ্য ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর আল আজহার গ্র্যাজুয়েটস্ বাংলাদেশের অভিভাবকের দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকপ্রাপ্ত পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
আজ ১০ এপ্রিল, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এস রহমান হলে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দ্য ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর আল আজহার গ্র্যাজুয়েটসের বাংলাদেশ শাখার যাত্রা শুরু উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. জালাল উদ্দীন। এ সময় সুফীজমের ওপর বক্তব্য দেন সুফী মিজানুর রহমান।
দ্য ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর আল আজহার গ্র্যাজুয়েটস্ বাংলাদেশ সংগঠনটি মিশর ও বাংলাদেশ উভয় দেশের অনুমোদিত সংগঠন। এ সংগঠনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আজহারী গ্র্যাজুয়েটসদের সঙ্গে মেলবন্ধন রচনা, বিভিন্ন ধর্মীয় ও অ্যাকাডেমিক সম্মেলন, সভা, সেমিনারের আয়োজন, আন্তর্জাতিক ইমাম প্রশিক্ষণের আয়োজন, পরিচালনা ও সনদ দেওয়া, স্কলারশিপ দেওয়া, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, দাওয়াহ ও ফতোয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্য পাঠে সৈয়দ মো. জালাল উদ্দীন বলেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হলেও মিশনের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তারও আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অক্সফোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১০৯৬ খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে। ১০৮২ বছরের পুরনো এ বিদ্যাপীঠের অধীনে বর্তমানে মিশরসহ সারাবিশ্বের ৫০টিরও অধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে ১৩০-১৪০ দেশের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমানে ২০ লাখ শিক্ষার্থী আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ বিদ্যাপীঠে দ্বীনি বিষয়ে পাঠদান করা হতো। কিন্তু বর্তমানে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি সাইন্স, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, ইকোনমিকস, বিজনেস স্টাডিজ, এগ্রিকালচার, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ আধুনিক বিষয়গুলোও পাঠদানে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নেছারিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রফিক উদ্দীন আল আযহারী, মোহাদ্দেস কামাল উদ্দিন আযহারী, সৈয়দ মাসুম কামাল আযহারী, মাও: সাইফুদ্দিন খালেদ আল আযহারী, মো. হোসাইন আল আযহারী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস প্রমুখ।

