চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। কাঁঠাল ক্রয় করে সারা দেশে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। উপজেলার বাগানবাজার, দাঁতমারা, পশ্চিম ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি, মীর্জারহাট, হাসনাবাদ, কয়লা, আন্দারমানিক, বড়বিল, লালমাই ও কৈয়াছড়া এলাকাসহ বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়া, ঢাল ও পাদদেশে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কাঁঠাল আর কাঁঠাল! মধুফল কাঁঠালের সুমিষ্ট ঘ্রাণে চারদিক এখন মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর। ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী উপজেলায় আটশত হেক্টর জমিতে কাঁঠালের বাগান রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, পশ্চিম, পূর্ব ও উত্তর ফটিকছড়ির উঁচু-নিচু প্রায় সব টিলায় শুধু কাঁঠাল আর কাঁঠাল। গাছের মূলসংলগ্ন উপরিভাগ থেকে শুরু করে গাছের প্রায় আগা পর্যন্ত কাঁঠাল শোভা পাচ্ছে। সুস্বাদু এসব কাঁঠাল বিক্রির ধুম পড়েছে পাহাড়ি অঞ্চলের সব বাজারে।
এখানকার কাঁঠাল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে। বিশেষ করে হেঁয়াকো বাজার কাঁঠালের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। পুরো বাজার জুড়ে কাঁঠাল আর কাঁঠাল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করে নিজ এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার হেঁয়াকো বাজারে কাঁঠাল বিক্রি করতে আসা মো. হাসান বলেন, ছোট আকারের কাঁঠালের দাম সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। আমি দৈনিক ২-৩ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করছি। হেঁয়াকো বাজারে কাঁঠাল কিনতে আসা চট্টগ্রাম নগরের ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, প্রতিটি কাঁঠালের গড় মূল্য ৫০ টাকা হিসাবে প্রতি বড় ট্রাকে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার কাঁঠাল ভর্তি করা যায়। পরে শহরে নিয়ে বিক্রি করে সবমিলিয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ পাওয়া যায়। হেঁয়াকো বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন মজুমদার বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় গাছে এবার অগণিত কাঁঠাল। এ ছাড়া বাজারে প্রচুর কাঁঠালের কারণে দামও তুলনামূলক কম।
এতে গরিব লোকজন কমদামে কাঁঠাল খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। উপজেলার হেঁয়াকো, নারায়ণহাট, বাগানবাজার, মীর্জারহাট, কাজিরহাটসহ পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রচুর কাঁঠাল উঠেছে। প্রতিদিন বাজারগুলোতে কেনাবেচার জন্য ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, এখানকার পাহাড়গুলোর মাটি লাল। লাল মাটিতে প্রচুর কাঁঠাল ধরে। এসব কাঁঠাল খুবই সুস্বাদু এবং রসে ভরা। দোআঁশ এবং এঁটেল মাটির সংমিশ্রণে হওয়ায় এখানে প্রতি বছরই কাঁঠাল বেশি হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাঁঠাল বেশি ধরেছে। নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু জাফর মাহমুদ বলেন, এখানকার পাহাড় এবং টিলার কাঁঠাল বিক্রি করে বহু লোক চলতি মৌসুমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। গ্রীষ্মের মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি শুরু হয়েছে। এ বিক্রি চলবে সামনের বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। তার দাবি, এখানকার কাঁঠালের কদর রয়েছে চট্টগ্রাম নগরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে।
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন মো. হাসানুজ্জামান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের লোকজনের আয়-রোজগারের ভালো সুযোগ হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এ অঞ্চলে এবার প্রচুর কাঁঠাল ফলেছে। এখানকার কাঁঠালের পরিচিতিও রয়েছে প্রচুর। সুস্বাদু হওয়ায় এর কদরও বেশি।

