অবশেষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাটের সেই ‘মরা খাল’ দখলমুক্ত করতে উদ্দ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ২জুন রোববার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল খালটির দখল করা বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদেন উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. মঞ্জুর আহাম্মদ। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের চেইনম্যান মো. ওসমান, নাজিরহাট ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহায়ক মো. রুবেল চৌধুরী, স্থানীয় সার্ভেয়ার মোহাম্মদ রাশেদ ও মো. মহিউদ্দিন। সার্ভেয়ার মো. মঞ্জুর আহাম্মদ বলেন, ‘খালটির বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে দেখেছি। এতে অনেক অংশে অবৈধ দখলদারদের থাবা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে ঝংকার মোড় এলাকায় বেশি। অনেকে আবার খালে আবর্জনা ফেলে বিষাক্ত করে রেখেছেন।
’ সূত্র জানায়, খালের নাজিরহাট বাজারের মধ্যখান থেকে পূর্বদিকে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এর কোনটি বসতঘর আবার কোনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বাজার এবং ঝংকারের আশেপাশে প্রতিনিয়ত অপরিকল্পিতভাবে অবাধে খালটি ভরাট করে বিলীন করা হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী ও শাসক দলের নেতারাই এমনটি করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানাযায়। নাজিরহাট ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুপশ্রী নাথ বলেন, ‘খালটির কিছু অংশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মালিকানাধীন। বাকি পুরোটাই খাল। আমরা অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাই। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে তারা আবারো আগের অবস্থায় ফিরে আসেন।’ বিষয়টি নিশ্চত করে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ফলে ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ারসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল সেখানে পাঠানো হয়। প্রতিনিধিদল সরেজমিনে দেখেছেন। যাচাই-বাছাই করে অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য,হালদার পাদদেশ থেকে নেমে আসা একসময়ের খরস্রোতা ‘মরা খাল’ নাজিরহাটের বুক চিরে বয়ে গেছে। বিভিন্ন কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, আরএস, বিএস খতিয়ান ও সিট মুলে এটি রেকর্ডিয় খাল। ভূমির শ্রেণিও দেখানো হয়েছে খাল। দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। নাজিরহাট থেকে শুরু হয়ে খালের শেষ হয় ডাইনজুরীর পূর্বপার্শ্বে একটি শাখা খালে গিয়ে।
কিন্তু এ খাল ভরাট ও দখলে আজ বিলীন হওয়ার পথে। সম্প্রতি উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধিগণের বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায়’ খালটির দখল ও দূষনের প্রকাশিত নিউজে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরপরই প্রশাসন এ্যাকশনে মাঠে নামেন এবং এ খাল উদ্ধারের উদ্যেগ গ্রহণ করে। এদিকে এলাকাবাসী দাবী জানান,খালটি উদ্ধারের পর খননের মাধ্যমে পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা করা হলে জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে উক্ত এলাকা।

