বাহরাইন,দক্ষিণ কোরিয়ার পর এশিয়ান কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠে এলো ইরান ও স্বাগতিক কাতার। ৩ ফেব্রুয়ারী আসরের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবল প্রতিপক্ষ জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নেয় ইরান।
চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালের রুদ্ধশ্বাস ট্রাইব্রেকারে উজবেকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠে স্বাগতিক কাতার। আল-জাজিরা ও এএফপির প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে জাপানের বিপক্ষে জেতায় ইরান জুড়ে উৎসবের ঢেউ লেগেছে।একই অবস্থা কাতারেও। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটায় এডুকেশনাল সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় এশিয়ার দুই ফুটবল পরাশক্তি জাপান ও ইরান। খেলা শুরু হতেই দুই দলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে খেলা।১৭ মিনিটের সময় সহজ সুযোগ পেয়েও জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির নৈপুণ্যে গোল বঞ্চিত হয় ইরান।২৮ মিনিটের সময় জাপানের মিডফিল্ডার হুয়া মোরিতা সেই ভুল করেননি।বুলেট শটে ইরানের জাল কাঁপিয়ে জাপানকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধে ওটাই ছিলো একমাত্র গোল।দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই সমতায় ফিরতে মরিয়া ইরান একের পর এক আক্রমণে জাপানের ডিফেন্সকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ৫৫ মিনিটে মোহেবির দর্শনীয় গোল সমতায় ফিরে আসে ইরান।
গোল করে উজ্জীবিত হয়ে ইরান বলের দখল রেখে জাপানের সীমানায় উঠে আসে বারবার।৬৪ মিনিটে ইরানিস গোল করলেও রেফারি গোলের বাঁশি না বাজিয়ে ভিএআর রেফারির সাহায্য নিয়ে অফসাইডের বাঁশি বাজিয়ে গোল বাতিল করে দেন। ৭০ মিনিটে পরপর দুইবার ইরানের পোস্টে শট নিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় কিওকা।ইরানের গোলরক্ষক অসাধারণ দৃঢ়তায় দুটো শটই আটকে দেন।৮৪ মিনিটে একই ভূমিকায় সুজুকি ইব্রাহিওনিসকে গোল বঞ্চিত করে রক্ষা করেন জাপানকে। যোগ করা সময়ে ইরান প্রবল ভাবে চেপে ধরে জাপানকে।সুজুকির দৃঢ়তায় গোল পেতে ব্যর্থ ইরান ষষ্ঠ মিনিটে অলআউট আক্রমণে উঠে এলে নিজেদের বক্সে হ্যান্ডবল করে বসেন এক জাপান ডিফেন্ডার।পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল হয়নি জাহানবাকশের।২-১ গোলের ব্যবধানেই খেলার শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।
ইরানের দর্শকের সেকি উন্মাদনা তখন এডুকেশনাল সিটি স্টেডিয়ামে।যে ঢেউ ইরানে আছড়ে পড়তে সময় লাগেনি। রাত সাড়ে নয়টায় আল বায়েত স্টেডিয়ামে চল্লিশ হাজার দর্শকের সমর্থন ধন্য হয়ে মাঠে নামা স্বাগতিক কাতারের ফুটবলাররা প্রত্যাশার চাপ নিতে পারছিলো না তা তাঁদের খেলাতেই প্রকাশ পাচ্ছিলো।কিন্তু কথায় আছে,যদি থাকে নসিবে,দৌড়াইয়া আসিবে।খেলার ২৭ মিনিটে উজবেক গোলরক্ষকের হাস্যকর ভুলে গোল পেয়ে যায় কাতার।নিজ দলের খেলোয়াড়ের হেড করা বল হাতে নিয়ে অকারণেই গোললাইন ক্রস করে বসেন ইউসুপভ।১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। সমতাসূচক গোলের জন্য উজবেকিস্তান অব্যাহত চেষ্টার ফল পেয়ে যায় ৫৯ মিনিটের সময়।হামরোবেকভের দারুণ গোলে সমতা আসে খেলায়। ঐ সমতায়ই নব্বই মিনিট ও ত্রিশ মিনিট কাটে।খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে।ট্রাইব্রেকারে প্রথম দুই শটে কাতার গোল পেলেও উজবেকিস্তান মিস করে দুটোই।স্টেডিয়াম যেনো ভেঙে পড়ার অবস্থা হয়।তিন ও চার নম্বর শট দুটোই মিস করে কাতার।মূহুর্তেই শ্মশানের নীরবতা নেমে আসে আল বায়েত স্টেডিয়ামে।চতুর্থ শট ঠেকিয়ে দিয়ে কাতার গোলরক্ষক আবার জাগিয়ে তোলেন দর্শকদের।২-২ সমতায় শেষ শট নিতে আসেন কাতারের দলনায়ক।তার শট জাল কাঁপিয়ে দিতেই ইরানের উৎসব চলে আসে কাতারজুড়ে।