আগেরদিন ইনিংস ছেড়ে না দিলে বিশ্ব রেকর্ডও গড়তে পারত বাংলাদেশ।প্রতিপক্ষকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য দেবার বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারতো।পারতো সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জেতার বিশ্বরেকর্ডও গড়তে।রেকর্ড নিয়ে হয়ত অতটা ভাবেননি লিটন দাসরা।তবে যা হয়েছে তাতেও রেকর্ড বইয়ে উঠে গেল বাংলাদেশের নাম।আফগানিস্তানকে বিধ্বস্ত করে ১৪৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে রানের দিক থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
গত ৮৯ বছরের টেষ্ট ইতিহাসে তথা ১৯৩৪ সালের পর এটাই সবচেয়ে বড়।১৪৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে পাঁচশো রানের বেশি ব্যবধানে জেতার নজির আছে কেবল তিনটি।১৯২৮ সালে অস্ট্রেলিয়াকে ৬৭৫ রানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড, ১৯৩৪ সালে ইংল্যান্ডকে আবার ৫৬২ রানে হারায় অস্ট্রেলিয়া।পরের রেকর্ডটিও অসিদের।১৯১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫৩০ রানে হারিয়েছিল তারা। টেস্টে রানের দিক থেকে এর আগে বাংনাদেশের সবচেয়ে বড় জয় ছিল ২২৬ রানের।২০০৫ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম টেস্ট জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।আজকের পাওয়া ৫৪৬ রানের জয় হয়তোবা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের হিসেবে অমর হয়েই থাকবে। আজ সকালে আগের দিনের ২ উইকেটে ৪৫ রান নিয়ে নামা আফগানিস্তান এক সেশনেই গুটিয়ে গেলো মাত্র ১১৫ রানে।দিনের তৃতীয় ওভারেই হারায় তাঁদের তৃতীয় উইকেট।
ইবাদতের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান নাসির জামাল।উইকেট কিপার ব্যাটার আফসার জাজাই নেমেও প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।দারুণ এক ডেলিভারিতে স্লিপে তাকে ক্যাচ বানান শরিফুল।অধিনায়ক হাসমতুল্লাহ শহিদি আগেরদিন তাসকিনের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে ছিটকে যান ম্যাচ থেকে।তার জায়গায় কনকাশন বদলি হিসেবে নেমে অভিষেকে সুবিধা করতে পারেননি বাহির শাহ।অ্যাঙ্গেল ও বাউন্সে বিপাকে পড়েন তিনিও।বাউন্সার থেকে বাঁচতে নীঁচু হয়ে ক্যাচ তুলে দেন তাইজুল ইসলামের হাতে।আফগানদের অন্যতম সেরা ব্যাটার রহমত শাহও বাউন্স সামলাতে নিজের দক্ষতা দেখাতে পারেননি।তাসকিনের বাড়তি বাউন্সে কাবু হয়ে তার ক্যাচও যায় লিটনের গ্লাভসে।তাসকিন পরের ওভারেই পান আরেক উইকেট।দারুণ ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে উড়িয়ে দেন করিম জানাতের স্টাম্প।লাঞ্চের ঠিক আগে মেহেদী হাসান মিরাজের বল সুইপ করতে গিয়ে গ্লাভসে লাগিয়ে ক্যাচ দিয়ে দেন হামজা হোটাক।খানিক পর ইয়ামিন আহমেদজাইকে আউট করার পর জাহির খানকে বাধ্য করেন রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে বেড়িয়ে যেতে আজ দুরন্ত ছন্দে থাকা তাসকিন।দুবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার পর তাসকিনের বলে হাতে ব্যথা পেয়ে আর খেলা চালাতে পারেননি তিনি।ম্যাচ শেষ হয়ে যায় তাতে।
প্রথম ইনিংসে ৩৮২ রান করার পর আফগানদের ১৪৬ রানে গুটিয়ে দিয়েই খেলা কার্যত শেষ করে দেয় বাংলাদেশের পেসাররা।চরম ব্যাকফুটে থেকে সফরকারীদের ফেরার সুযোগ না দিয়ে ২৩৬ রানের লিডের সঙ্গে তাদের উপর আরও ৪২৫ রান চাপিয়ে দেয় স্বাগতিকরা।দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত।খরা কাটিয়ে সেঞ্চুরি পান মুমিনুল হকও। প্রতিপক্ষকে ৬৬২ রানের অবিশ্বাস্য লক্ষ্য দিয়ে গতকালই দ্রুত দুই উইকেট তুলে নিলে ম্যাচের গতিপথ পরিষ্কার হয়ে যায়। চতুর্থ দিনে কেবল আনুষ্ঠানিকতা সারল লিটন দাসের দল।দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্ত অনুমিত ভাবেই হন ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়। সংক্ষিপ্ত স্কোর:-বাংলাদেশ ৩৮২ ও ৪২৫/৪(ডিক্লেয়ার) আফগানিস্তান:-১৪৬ ও ১১৫,তাসকিন ৪/৩৭,শরিফুল ইসলাম ৩/২৭। ফল:-বাংলাদেশ ৫৪৬ রানে জয়ী। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:- নাজমুল হোসেন শান্ত।

