বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় একটি রাবার কোম্পানীর শ্রমিক থাকার ঘর হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় প্রতিবাদ করায় কোম্পানীর দুই শ্রমিককে পিটিয়ে জখমও করে প্রতিপক্ষ। উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ঢেঁকিছড়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন- রাবার টেপার মো. জাহেদ ও ইলিয়াছ। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, ১৯৯২-৯৩ সালে সরকার কর্তৃক ১২শ ২৫ একর পাহাড়ি জায়গা লীজ নিয়ে বাগান সৃজন করে লামা রাবার ই্ন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানী। গত কয়েক বছর আগে এ জায়গার মধ্যে ৩০ একর জায়গা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিরা দাবী করলে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধর কিছু মুরুং ও ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায় লোভের বশীভূত হয়ে বিভিন্ন সময় বাগান কেটে দেয়া সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেন। পরে ২০২১ সালের দিকে কোম্পানী ওই জায়গায় পূণরায় রাবার বাগান সৃজন করে কোম্পানী। সর্বশেষ সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রংধজন ত্রিপুরা ও মতি ত্রিপুরার নেতৃত্বে লাংকম মুরুং, রিংরং মুরুং রেংয়েন মুরুং ও রেংয়োং মুরুং সহ ২০-২৫ জন সংঘবদ্ধ হয়ে ঢেকিছড়াস্থ শ্রমিক থাকার ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাঁধা দিলে রাবার টেপার মো. জাহেদ ও ইলিয়াছ কে পিটিয়ে জখম করে হামলাকারীরা।
এ বিষয়ে লামা রাবার ইন্ড্রাস্ট্রিজের ম্যানেজার মো. আরিফ হোসেন বলেন, অতীতেও অভিযুক্ত ¤ম্রো ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন বিভিন্ন সময় রাবার গাছ কেটে দেয় এবং বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রশাসনের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোম্পানীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। এ ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে রংধজন ও মতি ত্রিপুরার নেতৃত্বে ২০-২৫ জন রাবার শ্রমিক থাকার ঘরে হামলা চালিয়ে তছনছ করে দেয় এবং দুই টেপার কে মারধর করে আহত করেন। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে রংধজন ত্রিপুরা জানান, কোম্পানীর শ্রমিক থাকার ঘর ভাংচুরের বিষয়ে কিছ্ইু জানেন না।
এদিকে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, লামা রাবার ইন্ড্রাস্টিজের শ্রমিক থাকার ঘর ভাংচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

