প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। সুখের খবর হচ্ছে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস এই রেমিট্যান্স।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ দিনে (১ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি) ১০৫ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার (১.০৫ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিন গড়ে এসেছে ৬ কোটি ১৯ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্সে প্রতি ডলারের জন্য ১০৭ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এ হিসাবে টাকার অঙ্কে এই ১৭ দিনে ১১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী সোয়া কোটি প্রবাসী, প্রতিদিন পাঠিয়েছেন ৬৬১ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭ মাস ১৭ দিনে (২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি) ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩৮ লাখ (১৩.৫০ বিলিয়ন) ডলার এসেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গত বছরের জানুয়ারির চেয়ে বেশি এসেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। আর আগের মাস ডিসেম্বরের চেয়ে ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্স প্রবাহের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৭ দিনে যে ১০৫ কোটি ১৭ লাখ ডলার দেশে এসেছে, তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৮৫ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। আর ৯টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৮ লাখ ৩০ লাখ ডলার।
জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি (প্রায় ২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ১৭০ কোটি (১.৭০ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। অক্টোবর ও নভেম্বরে এসেছিল যথাক্রমে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ও ১৫৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৪ কোটি ডলার। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে অবশ্য ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল।
মার্চের শেষ দিকে রমজান মাস শুরু হবে। রোজা ও ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারক, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় এবং বেশি টাকা পাওয়ায় মাঝে কয়েক মাস প্রবাসীরা অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠানোয় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমে গিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক হুন্ডির বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

