রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনায় ইসলাম

- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

লাতিন আমেরিকা তথা দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে মুসলিম সংখ্যালঘুরা তুলনামূলকভাবে ইউরোপ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের তুলনায় যথেষ্ট কম মনোযোগ পেয়েছে। লাতিন আমেরিকান দেশগুলোতে ইসলাম একটি দ্রুত ক্রমবর্ধমান ধর্ম, কিন্তু দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা এখনও এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিতে পারেননি।
আর্জেন্টিনা লাতিন আমেরিকা তথা দক্ষিণ আমেরিকার একটি অন্যতম বড় রাষ্ট্র। বুয়েন্স আয়ার্স দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। দেশটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ অংশের প্রায় পুরোটা জুড়ে অবস্থিত। আয়তনের দিক থেকে এটি দক্ষিণ আমেরিকার ২য় বৃহত্তম এবং বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম রাষ্ট্র।
আর্জেন্টিনায় ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু বিচিত্র। উত্তরের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে দক্ষিণের মেরু-উপদেশীয় অঞ্চল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিস্তার। এর মধ্যেই আছে রুক্ষ আন্দেস পর্বতমালা ও তার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আকোনকাগুয়া। তবে বেশির ভাগ লোক দেশটির মধ্যভাগে অবস্থিত বিশাল উর্বর প্রেইরি সমভূমির (যার নাম পাম্পাস) শহরগুলিতে বাস করেন। পাম্পাসেই দেশটির অধিকাংশ কৃষিসম্পদ উৎপন্ন হয় এবং এখানেই দক্ষিণ আমেরিকার বিখ্যাত কাউবয় “গাউচো”-দের আবাসস্থল। আর্জেন্টিনায় আরও আছে অরণ্যভূমি, মরুভূমি, তুন্দ্রাভূমি, সুউচ্চ সব পর্বতশৃঙ্গ, নদ-নদী এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আটলান্টিক মহাসাগরীয় উপকূলভূমি।
আর্জেন্টিনার আয়তন ২৭,৮০,৪০০ কিমি (১০,৭৩,৫১৮ মা)। আন্দেস পর্বতমালা দেশটির পশ্চিম সীমানা নির্ধারণ করেছে, যার অপর পার্শ্বে চিলি অবস্থিত।দেশটি উত্তরে বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে, উত্তর-পূর্বে ব্রাজিল, পূর্বে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর। এবং দক্ষিণে ড্রেক প্রণালী।


২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ৪,০১,১৭,০৯৬ জন। মোট জনসংখ্যায় আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকায় তৃতীয়, ল্যাটিন আমেরিকায় চতুর্থ এবং বিশ্বব্যাপী ৩৩তম। আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রীয় ভাষা স্প্যানীশ। আর্জেন্টিনার মুদ্রার নাম পেসো।
আর্জেনটিনা মূলতঃ খৃষ্টান সংখ্যাগরিষ্ট দেশ। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা আর্জেন্টিনায় অন্যতম বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। আর্জেন্টিনার সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ প্রকৃতির কারণে, মুসলমানরা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করতে এবং দেশটিতে তাদের উপাসনালয় নির্মাণের জন্য স্বাধীন। দেশটিতে ধর্ম বিষয়ক কোন পরিসংখ্যান রাখা না হলেও(কারণ আর্জেন্টিনার জাতীয় আদমশুমারি ধর্মীয় তথ্য চায় না) ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা চার থেকে পাঁচ লাখের মাঝামাঝি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১%। তবে ২০১০ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছিল যে, দেশটিতে প্রায় ১০,০০,০০০ লাখ (দশ লাখ) মুসলিম বাস করে। অপরদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়ন ডাটা আর্কাইভের মতে, দেশটির প্রায় ২% মানুষ মুসলিম।
আর্জেন্টিনা জুড়ে অনেক মসজিদ এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৯৮৯ সালে আর্জেন্টাইন মুসলিমদের দ্বারা নির্মিত কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং কিং ফাহদ ইসলামিক কালচার সেন্টার, যা দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম মসজিদ।
ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে, আর্জেন্টিনায় ইসলামিক রীতিনীতিগুলি আরও খোলাখুলিভাবে অনুসরণ করা যায়, যদিও কিছু আর্জেন্টাইন মুসলিম রয়েছে যারা এখনও তাদের ধর্মবিশ্বাসকে গোপন রাখে। বর্তমানে, ইসলাম একটি ধর্ম হিসাবে আর্জেন্টিনায় সহজে গৃহীত হয় এবং আর্জেন্টিনার সমাজে মুসলমান হওয়া কোন অদ্ভুদ ব্যাপার না। দ্য আর্জেন্টিনা ইন্ডিপেন্ডেন্টের মতে, ‘মুসলিম হওয়ার কারণে আর্জেন্টিনায় কোনো বৈষম্য নেই’ এবং ‘আর্জেন্টিনায় একজন মুসলিম…কোনও অসুবিধা ছাড়াই সম্পূর্ণ শান্তিতে তার বিশ্বাসের অনুশীলন করতে পারে।“
আর্জেনটিনায় মুসলমানদের আগমনের ইতিহাস:
পঞ্চদশ শতাব্দীতে যখন আর্জেন্টিনা স্পেনের উপনিবেশ ছিল, তখন স্পেন থেকে মুর (গড়ড়ৎ-স্প্যানীশ মুসলিম) মুসলমানরা ও মরিস্কো (গড়ৎরংপড়-ইসলাম থেকে খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত স্প্যানীশ মুসলিম) স্পেনের নাবিকদের সাথে দেশটিতে এসেছিল। তাদের অধিকাংশই বসতি গেড়েছিল আর্জেন্টিনায়।
১৯ শতকের শেষের দিকে এবং ২০ শতকের প্রথম দিকে, আর্জেন্টিনা সরকার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা আরব অভিবাসীদের একটি ঢেউ প্রত্যক্ষ করেছিলেন, বিশেষ করে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়া এবং লেবানন থেকে, যেগুলি অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। আর্জেন্টিনায় আসা অভিবাসীদের তুর্কি হিসাবে বিবেচনা করা হত কারণ তারা কেবল তুর্কি নথিপত্র বহন করতো। এই অভিবাসীদের অধিকাংশই খ্রিস্টান হলেও, তাদের সাথে অনেক মুসলমানও এসেছিল। বর্তমানে আর্জেন্টিনা লাতিন আমেরিকার অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। যদিও এই তরঙ্গে ঠিক কতজন মুসলিম আর্জেন্টিনায় এসেছিল, তার নির্দিষ্ট তথ্য খুব কম, তবে এই সংখ্যা আনুমানিক ৪,০০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ জন মুসলমান যা দেশটির দক্ষিণ কোণের (ঝড়ঁঃযবৎহ ঈড়হব) জনসংখ্যার প্রায় ১-২শতাংশ। বর্তমানে আর্জেন্টিনায় আরব বংশোদ্ভূত প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস করে তাদের বেশীরভাগই খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী।
আর্জেন্টিনায় ইসলামি প্রতিষ্ঠান:
আশির দশকে দেশটির রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে দুটি মসজিদ গড়ে ওঠে, যেগুলো ছিল দেশটির ইতিহাসে প্রথম দুই মসজিদ। ১৯৮৩ সালে শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য দেশটিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের সহায়তার আত-তৌহিদ মসজিদ গড়ে ওঠে। অপরদিকে ১৯৮৫ সালে সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত লোকেরা আল আহমাদ মসজিদ নির্মাণ করে, যেটি ছিল দেশটির ভূমিতে ইসলামি স্থাপত্যকলায় নির্মিত প্রথম ইমারত। দেশটির অন্যান্য নগর ও অঞ্চলে কিছু মসজিদ বিদ্যমান। দেশটির কর্ডোভা শহরে দুইটি মসজিদ এবং বুয়েন্স আয়ার্সের মার ডেল প্লেটায় দুইটি মসজিদ আছে। পৃথিবীর সর্ব দক্ষিণে আর্জেনটিনার রিও নেগ্রো প্রদেশের এল বলসন শহরে সুন্নী মুসলিমদের সুফি মসজিদ অবস্থিত।
বাদশাহ ফাহাদ ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দেশটির সর্ববৃহৎ মসজিদ, যার নির্মাণকাজ তৎকালীন খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন এবং সৌদী আরবের বাদশাহ ফাহদের তত্ত্বাবধায়নে ১৯৯৬সালে ২০,০০০বর্গমিটার জমির উপর সম্পন্ন হয়। আর্জেন্টিনার কার্লোস মেনেম সরকার ১৯৯২ সালে স্থাপনাটি নির্মাণের জন্য বুয়েন্স আয়ার্সে ৩৪,০০০ বর্গমিটার জমি দান করেছিলেন। স্থাপনাটি নির্মাণে খরচ হয়েছিল ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্থাপনার অন্তর্ভুক্ত ইমারতগুলো হল একটি মসজিদ, একটি গ্রন্থাগার, দুইটি বিদ্যালয় ও একটি পার্ক।
ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব ল্যাটিন আমেরিকার প্রধান কার্যালয় আর্জেন্টিনায় অবস্থিত। সংগঠনটিকে ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে সক্রিয় ইসলামি সংগঠন বলে বিবেচনা করা হয়। সংগঠনটি ল্যাটিন আমেরিকার সমাজে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্তকরণ ও ইসলাম প্রচার নিয়ে বিভিন্ন রকম কার্যক্রম চালিয়ে থাকে।
কার্লোস মেনেমের প্রেসিডেন্সি (আর্জেনটিনা ও মুসলিমদের জন্য তাঁর অবদান):
এতদিন আর্জেন্টিনার সংখ্যাগরিষ্টরা সংখ্যালঘু আর্জেন্টিনার মুসলমানদের উপেক্ষা করে আসছিল, কিন্তু এটি ১৯৮৯ সালে কার্লোস মেনেমের নির্বাচনের সাথে সাথে পরিবর্তন হতে শুরু করে। মেনেম লা রিওজা প্রদেশে (চিলির কাছে) দুই সিরীয় অভিবাসীর দ্বারা লালিত-পালিত হন এবং তিনি প্রথম আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট যিনি আরব বংশোদ্ভূত। “মেনেমের ক্ষমতায় প্রবেশ, যে কোনো আদর্শিক বিষয় পেরিয়ে, দেশে বিপ্লব ঘটিয়েছে। আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো উচ্চতর বিষয়গুলিতে যাওয়ার জন্য মেনেম তাঁর ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। তবুও তিনি মনের দিক থেকে মুসলমান ছিলেন। তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী জুলেমা ইয়োমা বলেছিলেন যে ‘মেনেম ইসলাম ত্যাগ করেছিলেন এবং ১৯৬৬ সালে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন কারণ তিনি জাতির রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছিলেন’
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে আর্জেন্টিনার একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বে মেনেম তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরগুলিতে, দেশের দারিদ্র্যতা দূরীকরণে এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচির উন্নতিতে একটি কার্যকর ভূমিকা পালনের অভিপ্রায়ে অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন যা এইডস সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুর পুষ্টি এবং টিকার প্রচার ও প্রসার করে। মেনেমের অনেক দারিদ্র্যতা বিরোধী নীতি আর্জেন্টিনার উন্নতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অধিকন্তু, তিনি ইউনিয়ন সিভিকা র‌্যাডিক্যাল (টঈজ) কে দেশের কোটা আইন পাস করার জন্য রাজি করান, যা ল্যাটিন আমেরিকান দেশগুলোর মধ্যে প্রথম, যা আরও বেশি নারীকে সেদেশের কংগ্রেসে (সংসদে) প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিয়েছে। যাইহোক, আর্জেন্টিনার উচ্চ অপরাধের হার নিয়ন্ত্রণে এবং আর্জেন্টিনা সরকারের ১৯৯২ এবং ১৯৯৪ সালের ইহুদি স্থাপনায় হামলার শিকারদের পূণর্বাসনে সক্ষমতার অভাবের কারণে ১৯৯৭ সালে তাঁর সরকারকে নাটকীয় পতনের দিকে পরিচালিত করে।
মেনেমের মুসলিম শিকর তাঁকে আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায়কে দান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। ১৯৯৫ সালে, তিনি সৌদী আরবে তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের পরে, লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম মসজিদ কিং ফাহদ মসজিদ নির্মাণের জন্য বুয়েন্স আয়ার্স পালেরমো কোয়ার্টারে আর্জেনটাইন মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ৮ একর জমি দান করেছিলেন। অনেক আর্জেন্টাইন মুসলমান এই বিল্ডিংটিকে মেনেমের উত্তরাধিকারের ক্যাপস্টোন হিসেবে দেখে।
আর্জেন্টিনার সমাজে মুসলমানদের অবস্থান:
কীভাবে সমাজে ধর্ম সংরক্ষণ করা হয় এবং কীভাবে ধর্মের মৃত্যু হয়, তার একটি ভাল উদাহরণ হলো আর্জেন্টিনার বৃহত্তম শহর ও রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্স। ১৯ শতকের শেষের দিকে এবং ২০ শতকের প্রথম দিকে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন মুসলমান আর্জেন্টিনায় চলে আসে। কিন্তু এখন, বছরের পর বছর দেশটির জাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও, স্ব-পরিচিত মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় একই রয়ে গেছে।
অনেক আর্জেন্টাইন সাংবাদিক মুসলিম নেতাদের এবং যারা (মুসল্লী)নিয়মিত বুয়েন্স আয়ার্সে মসজিদে উপস্থিত হন তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন কারণ তারা বিশ্বাস করেন না যে, সেখানে এত বেশি সংখ্যক ধর্মনিষ্ট মুসলমান রয়েছেন। কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজের জন্য, সাধারণত বিশ জনের বেশি মুসল্লী উপস্থিত থাকেন না। আর্জেন্টিনায়, ইসলাম বিশ্বাসীদের (যারা অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত) একটি ছোট সম্প্রদায় রয়েছে, যারা ইসলামের শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার তাদের ওয়াদা পালন করার জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক কর্মসূচিতে যোগ দেন। অনেক মুসলিম আর্জেন্টাইন তাদের বিশ্বাস ও পবিত্র কুরআন শিক্ষা নিতে এবং তারা যে একটি উম্মাহ (সম্প্রদায়) এর অন্তর্ভূক্ত এর অর্থ সম্পর্কে জানতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জড়ো হয়।
২০১১ সালে একটি অগ্রগতি আসে যখন কির্চনার প্রশাসন মুসলিম নারীদের যাতে নিপীড়নের সম্মুখীন হতে না হয়, সেজন্যে মুসলিম নারীদের জনসমক্ষে হিজাব পরার অনুমতি দিয়ে আইন পাস করে। এই আইনটি লাতিন আমেরিকার এদেশটিতে ধর্ম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রসারিত করেছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়েকে আর্জেন্টিনার সমাজে আরও ভালোভাবে সংহত হতে সাহায্য করেছে। এই নতুন আইনে আর্জেনটিনার জাতীয় পরিচয়পত্রে মুসলিম নারীদের হিজাব পরিহিত ছবি ব্যবহার করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যদিও মুসলিমরা আর্জেন্টিনায় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব করে, কিন্তু আর্জেন্টিনা সরকারগুলো আর্জেন্টিনার মুসলমানরা যাতে বৈষম্যের সম্মুখীন না হয়ে স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মমত প্রকাশ ও পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে, আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে স্প্যানিশ ভাষায় নির্ভরযোগ্য ইসলামি শিক্ষার প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কারণ আর্জেন্টিনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি, লক্ষ লক্ষ লাতিন আমেরিকান রয়েছে যাদের মাতৃভাষা স্প্যানিশ। আর্জেন্টিনায় ইসলাম সংরক্ষণের সমস্যা হল যে, কিছু আর্জেন্টিনার মুসলমান আর তাদের ধর্মের সাথে যুক্ত নয়, এবং এমনকি বেশিরভাগ আর্জেন্টাইন মুসলিম তাদের পূর্বপুরুষরা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও নিজেদেরকে মুসলিম বলে মনে করে না। ইউরোপের তুলনায় আর্জেন্টিনায় ইসলামোফোবিয়া কম। ইসলামিক সেন্টার অফ নর্থ আমেরিকার ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ওয়াকাস সৈয়দের মতে, “লাতিন আমেরিকা সবসময়ই ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার ইসলাম বিরোধী যে কোনও বক্তব্যকে একেবারেই খারিজ করেছে এবং এখানে মুসলিম এবং অমুসলিম ল্যাটিনোদের মধ্যে সম্পর্ককে চমৎকার এবং শক্তিশালী হিসাবে বর্ণনা করা যায়।“ অনেক ইউরোপীয় এবং আমেরিকান ইসলামকে উগ্রপন্থীদের সাথে সংযুক্ত করে, কিন্তু আর্জেন্টাইনরা, ইসলামকে নিয়ে ইউরোপীয় এবং আমেরিকানদের করা এ বক্তব্যের বিরোধীতা করে।
আজকের আর্জেন্টিনায় ইসলাম:
মূলতঃ কিছু কারণে আর্জেন্টিনার মুসলমানদের সংখ্যা কমছে। প্রথমত, ইসলামী সংস্কৃতি, ধর্ম, আরবি ভাষা শেখা সহ অনেক রীতিনীতি হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক আর্জেন্টাইন মুসলিমদের শুধুমাত্র একজন মুসলিম পিতা অথবা মা আছেন কিন্তু তারা আরবি জানেন না সেকারণে, তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রথম ভাষা হিসেবে স্প্যানিশ শিখেছে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় স্প্যানিশ ভাষাভাষীদের জন্য স্প্যানীশ ভাষায় ইসলামের সাথে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে পড়ার খুব কম উপকরন বা পাঠ্যবই রয়েছে, বিশেষ করে স্প্যানীশ ভাষায় পবিত্র কুরআন। এবং সবশেষে, ইসলামী শিক্ষার জন্য ইসলামিক অধ্যয়ন কেন্দ্র ও মাদ্রাসার (স্কুল) অভাব রয়েছে। অনেক আর্জেন্টাইন মুসলমান তাদের দেশের (আর্জেনটাইন) সংস্কৃতিতে আরও ভালভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে এবং তারা কখনও কখনও তাদের শিকর সম্পর্কে সচেতন নয়।
মধ্যপ্রাচ্য (বেশিরভাগই লেবানন এবং সিরিয়া থেকে আসা) সহ অন্যন্যা দেশ থেকে আগত আর্জেন্টিনার অভিবাসীদের তাদের শিকর খোঁজার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আজ, অনেক আর্জেন্টাইন মুসলমান তাদের শিকড় সন্ধান করছে। কিছু আর্জেন্টাইন মুসলমান বলেছেন যে, আর্জেনটাইন মিডিয়া যেভাবে বৃহত্তরভাবে ইসলাম এবং মুসলমানদেরকে চিত্রিত করে তার কারণে তাদের নিজস্ব ধর্ম পালন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও আর্জেন্টিনা, মুসলিম অধ্যুষিত অনেক দেশ থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, তারপরও আর্জেন্টিনার মুসলিমরা এখনও তাদের ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণ করে যা বহু প্রজন্ম ধরে লালিতপালিত হয়ে আসছে। আর্জেন্টিনার মুসলমানরা এখনও দেশজুড়ে স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালনের ব্যাপারে বিস্তর আশাবাদী। অনেক মুসলিম কর্মকর্তা আর্জেন্টিনাকে একটি আদর্শ অবস্থান হিসেবে দেখেন, যেখানে ইসলাম, ইসলামিক মূল্যবোধের নিরপেক্ষ সত্যকে ছড়িয়ে দিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে বা প্রদর্শন করছে।
পরিশেষে বলা যায়, লাতিন আমেরিকায় ইসলাম অন্বেষণ করা শুরু হয়েছে, এবং অদূর ভবিষ্যতে, এই অঞ্চলের মুসলমানদের প্রতি লাতিন আমেরিকান নাগরিক এবং তাদের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে আরো সহনশীলতা ও সহানুভূতি বৃদ্ধি পাবার আশা আছে।

এই বিভাগের সব খবর

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) বিষয়টি...

ইলমে দ্বীন ও সুন্নিয়ত প্রচার প্রসারে আল্লামা “সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (রহ:) এর অবদান” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

খলিফায়ে গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী মুফতিয়ে আজম শাইখুল ইসলাম শাহছুফি আল্লামা সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (রাঃ)'র চান্দ্র বার্ষিকী ওরশ শরীফ উপলক্ষে "ইলমে দ্বীন ও সুন্নিয়ত...

ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় পারভিন(৫৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ১৩ জুন উপজেলার গহিরা হেঁয়াকো সড়কের নানুপুর বাজারের উত্তর পাশে হাবিব মুন্সি মার্কেটের সামনে এ...

সর্বশেষ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন।...

ইলমে দ্বীন ও সুন্নিয়ত প্রচার প্রসারে আল্লামা “সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (রহ:) এর অবদান” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

খলিফায়ে গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী মুফতিয়ে আজম শাইখুল ইসলাম শাহছুফি...

ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় পারভিন(৫৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।...

আনোয়ারায় নিজ ঘর থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নে নিজ বাড়ি থেকে মা ও...

‘সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ‘সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার...

এ বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর কর...