দীর্ঘদিন ধরে নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পাঁচটি কারণ খুঁজে পেয়েছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। নাগরিকদের অসচেতনতা, অতিবৃষ্টি, খালের বাঁধ, অতিমাত্রায় জোয়ার ও নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া- এ পাঁচ কারণেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা বলে জানিয়েছেন কমিটির একাধিক সদস্য।
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার এসব কারণ আজ চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আগামীকাল মঙ্গলবার তা সিটি মেয়র, সিডিএ চেয়ারম্যানকে দেয়া হবে বলে জানা যায়। গত জুনের ১৭ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয় নগরীতে। এই বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন এলাকায় এই জলাবদ্ধতা ২৪ ঘণ্টায় সরেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য বলেন, গত জুনে নগরীতে সৃষ্ট হওয়া ভয়াবহ জলাবদ্ধতার পাঁচটি কারণ আমরা খুঁজে পেয়েছি। তা আমরা চূড়ান্ত করে মঙ্গলবার মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যানকে জমা দিব।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে- নাগরিকদের সচেতনতার অভাব। অর্থাৎ খালে, ড্রেন-নালায় যে যেখানে পারছে ইচ্ছেমত ময়লা ফেলছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে এবং সেসময় জোয়ারের উচ্চতাও ছিল বেশি। এছাড়া, কিছু কিছু বাঁধের কারণেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। যে বাঁধগুলো কাটলে কোন সমস্যা হবে না, আমরা সেসব বাঁধ কেটে দিয়েছি তবে জলাবদ্ধতার কাজ চলমান থাকায় কিছু বাঁধ কাটা যাবে না।
গত ২২ জুন নগরীতে জলাবদ্ধতার প্রকোপ নিরসনে করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সভা ডাকেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। ওই দিন দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশন করতে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কোন জায়গায় কি সমস্যা বা পানি চলাচলে কেন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, কমিটিকে সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে ১০ দিনের মধ্যে সমাধান করতে বলা হয়।
খালে কিছু বাঁধ রয়েছে, কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো সব নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জলাবদ্ধতা থেকে মানুষকে যাতে মুক্তি দিতে পারি সেই জন্য আজকের এই সভা। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশন করতে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যেখানে আহবায়ক করা হয়েছে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসকে। সদস্য করা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিককে, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পরিচালক এবং সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোবারক আলীকে। এছাড়াও এই কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য সিএমপি, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিনিধি থাকবেন। কোন জায়গায় কি সমস্যা রয়েছে বা পানি চলাচলে কেন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এই কমিটি এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করবেন।

