অবশেষে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মহিষ ও গরুর মালিকানা নিয়ে শ্বশুর -জামাইয়ের দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে।
এক দশক আগে লক্ষীপুরের রামগতির আবদুল অদুদ যান বিদেশে। সেখানে যাওয়ার আগে তার কেনা মহিষ ও গরু লালন পালনের জন্য দিয়েছিলেন শ্বশুরকে। লালন পালনের পর গবাদি পশুগুলো সংখ্যায় বেড়েছে। এক দশক পর বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন অদুদ। ফেরত চান তার গবাদি পশুগুলো। কিন্তু সেগুলো দিতে অস্বীকৃতি জানান শ্বশুর নূর মোহাম্মদ। তদন্তের পর দায়রা আদালতের সিদ্ধান্ত যায় জামাই অদুদের পক্ষে। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসেন শ্বশুর। মামলার বিষয়বস্তু শোনার পর বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেন। দায়িত্ব দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে। গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে চলা সালিশ বৈঠকের পরই বিরোধ নিষ্পত্তি হয় জামাই-শ্বশুরের। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭টি মহিষের মধ্যে ৫টি বড় ও ৪টি ছোট মহিষ পাবে অদুদ। আর ৬টি বড় ও ২টি ছোট মহিষ নেবে শ্বশুর। বিরোধ নিষ্পত্তির এই সিদ্ধান্ত আজ মঙ্গলবার(২৮জুন) অবহিত করা হয় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে। ব্যতিক্রমধর্মী এ মামলা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনার খোরাক যোগায়।
জামাই-শ্বশুর অঙ্গীকার করলেন আর কখনো বিবাদ করবেন না। হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে এমন অঙ্গীকারের পর দুজনে কোলাকুলিও করলেন। আদালত দুজনের উদ্দ্যেশে বললেন, গ্রামের লোকের কুপরামর্শ কারণে তুলবেন না। একবার কি ভেবে দেখছেন? কী নিয়ে আপনারা বিবাদ করছেন? আপনাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎের কথা চিন্তা করে এই বিবাদ থেকে সরে আসতে হবে। নইলে মানুষ বলবে, এরা তো গরু-মহিষ নিয়ে বিবাদ করে। মামলা করে।
শ্বশুরের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলেন, আপনার দায়িত্ব অনেক। মেয়ের জামাইকে দেখে রাখবেন। জামাইয়ের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, আপনিও শ্বশুরের খোঁজ রাখবেন। শ্রদ্ধা করবেন।দুজনেই হাসিমুখে থাকবেন। আপনাদের মধ্যে যেন বিবাদ আর না হয় সে বিষয়ে খোঁজ রাখতে সংশ্লিষ্ট রামগতি থানার ওসিকে নির্দেশনা দিচ্ছিে।
ইমা

