চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দেড় মাস আগে গৃহবধূ পিঙ্কি দাশকে অপবাদ দেয়া হয় এক ওয়ার্ড মেম্বার তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল বলে। এ অপবাদ দিয়ে স্বামী ও ননদ তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। সবশেষ ২৫ জুন মিলল ঝুলন্ত মরদেহ। এ ঘটনায় স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মায়ের মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে নিষ্পাপ দুই শিশু অপ্সরা ও অর্জুন। মাকে হারিয়ে নির্বাক তারা।
১১ বছর আগে সাতকানিয়ার কাঞ্চনার বাসিন্দা অলক দাশের সঙ্গে বিয়ে হয় পিঙ্কির। দুই মাসে আগে কাঁঠালের পাতা খাওয়ার সময় ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ফাঁস খেয়ে একটি ছাগলের মৃত্যু হয়।
ননদের কথায় শাশুড়িকে না জানিয়ে ছাগলটি কেটে ফেলা হয়। অপরাধ ছিল এতটুকুই। এর পর থেকেই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দেড় মাস আগে স্থানীয় চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সন্তোষ পিঙ্কিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল বলে ননদের প্ররোচনায় স্বামী এ অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় মেম্বারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে পিঙ্কিকে অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। আত্মহত্যা নয়, নির্যাতনের এক পর্যায়ে পিঙ্কিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
তারা বলেন, ওরা আমাদের মেয়েকে নির্যাতন করতো। তারা ক্ষমতার প্রভাব দেখাতো। আমাদের মেয়ে কোনোদিন আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে মেরে ফেলে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে। তারা আগেও বলেছে, আমাদের মেয়েকে মেরে ফেলবে।
এ ঘটনায় স্বামী অলক দাশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাতকানিয়া থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, পিঙ্কির স্বামী নাকি তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। তাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছে তারা এমন অভিযোগও আছে। আমরা মামলা নিয়েছি। তার স্বামীকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।
পিঙ্কি দাশের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছে তার ভাই দীপঙ্কর।

