বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

খুলে গেল অবাধ সমৃদ্ধির দ্বার

- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর বহু-প্রত্যাশিত পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন করায় দেশের অবাধ সমৃদ্ধির দ্বার উন্মোচিত হল।
প্রধানমন্ত্রী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আজ সকালে পদ্মা সেতুর ফলক উম্মুক্ত করেন। এ সময় সেখানে বিদেশি কূটনীতিকসহ হাজারো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অবশেষে, প্রমত্তা পদ্মানদী বশীভূত করা গেল এবং এর ফলে পদ্মার উভয় পাড়ে বসবাস করা লোকজনকে আর অসহায়ের মতো বসে থাকতে হবে না। এই সেতুর সংযোগের মাধ্যমে তারা এখন উভয় দিক যুক্ত হলো।
রোববার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ সরাসরি সড়ক পথে ঢাকায় যেতে পারবেন। এর মধ্যদিয়ে তারা ফেরি ঘাটের যন্ত্রণাদায়ক দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। তারা এখন এ সেতুর উপর দিয়ে মাত্র ছয় মিনিটে এ নদী পর হবেন।
স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু কেবলমাত্র রাজধানী ঢাকা ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগই স্থাপন করেনি না বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক সংযোগ ও বাণিজ্যের দ্বার খুলে দিলো।
এছাড়া, এই সেতু সাধারণভাবে সারা দেশের পাশাপাশি বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সমৃদ্ধি আনয়নের ক্ষেত্রে পরিবহন সময় ও অন্য ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাব রাখবে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে মাওয়ায় পৌঁছান এবং পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত দেশের বৃহত্তম এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধনের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক এই শুভ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি স্মারক ডাক টিকেট, স্মারক পত্র ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন এবং একটি বিশেষ সীল মোহর ব্যবহার করেন। এই সেতু মোট জাতীয় উৎপাদনে ১.২ থেকে ২ শতাংশ যোগ করবে কবলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিজ হাতে টোল প্রদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা বহুমুখী সেতু অতিক্রমের টোল প্রদান প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন টোল প্রধানের মাধ্যমে পদ্মা সেতু পার হওয়া প্রথম ব্যক্তি। পরে তিনি তিনি জন সমাবেশে যোগ দিতে জাজিরা পয়েন্টে যান।
২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান স্থাপনের মধ্যদিয়ে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়।
পরে, একের পর এক ৪১টি স্প্যানের সবক’টি ৪২টি পিলারের উপর স্থাপন করা হয়। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর এর সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্যদিয়ে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমমুখী পদ্মা সেতুর পুরো অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়।
নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৩০হাজার ১৯৩৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা (৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন টাওয়ার ও গ্যাস লাইনের জন্য ১ হাজার কোটি টাকাসহ) এবং ১৩.৮ কিলোমিটার নদী শাসন কাজের ব্যয় (আরটিডব্লিউ) হয় ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর শরিয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান স্থাপন করা হয়।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিয়তপুর জেলার জারিরা পয়েন্টে নদী শাসন ও পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালের ৪ জুলাই মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন।
১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি ১৯৯৭ সালে জাপান সফর করেন। তিনি পদ্মা ও রূপসা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য জাপানের কাছে প্রস্তাব দেন। জাপান সরকার এ দুই নদীর উপর সেতু নির্মাণের ব্যাপারে সম্মত হন। নদী হিসেবে পদ্মা একটি প্রমত্তা নদী। এ নদীটি অত্যন্ত খর¯্রােতা। জাপান তাঁর অনুরোধে পদ্মা ও রূপসা নদীর উপর নির্মাণের সম্ভাব্যতা জরিপ কওে রূপসায় সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে।
২০০১ সালে জাপান পদ্মা নদীর উপর সেতু নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে সম্ভাব্যতা জরিপ প্রতিবেদন জমা দেয়। জাপানের জরিপ প্রতিবেদনে পদ্মা সেতুর নির্মাণ স্থল হিসেবে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়।
জরিপের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালোর ৪ জুলাই মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন।
তবে, আওয়ামী ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মাওয়া পয়েন্টে সেতুর নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর জন্য ফের জরিপ চালাতে জাপান সরকারকে অনুরোধ জানায়।
দ্বিতীয় দফা জরিপের পর জাপান পদ্মা সেতু নির্মাণের স্থান হিসেবে মাওয়া পয়েন্ট নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দেয়।
২০০৯ সালে আবারো ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় পদ্মা সেতুর নির্মাণ অন্তর্ভূক্ত করে।
দায়িত্ব গ্রহণের ২২তম দিনে নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোনসাল ইকম’কে পদ্মা সেতুর নকশা প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রথমে এ সেতু প্রকল্পে রেলওয়ে সুবিধা ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সেতুর চূড়ান্ত নকশায় রেল লাইন সুবিধা রাখা হয়।
২০১০ সালে এ নকশা চূড়ান্ত করা হয়। পরের বছর জানুয়ারিতে ডিপিপি সংশোধন করা হয়। সংশোধনের কারণে এই প্রকল্প ব্যয় ২০হাজার ৫০৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বিভিন্ন কারণ ছিল।

এই বিভাগের সব খবর

নগরের সৌন্দর্য বিনষ্টকারী স্থাপনা অপসারণ করলেন চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম নগরের সৌন্দর্য রক্ষা, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ...

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

জেলার আনোয়ারায় কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) ও চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার। বুধবার বেলা...

২০৩০ বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিদর্শনে ফিফার প্রতিনিধি দল

২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের ভেন্যু নির্বাচনের অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর সম্ভাব্য আয়োজক শহরগুলো পরিদর্শন করবে ফিফা। মঙ্গলবার বিশ্ব ফুটবলের...

সর্বশেষ

নগরের সৌন্দর্য বিনষ্টকারী স্থাপনা অপসারণ করলেন চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম নগরের সৌন্দর্য রক্ষা, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং...

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

জেলার আনোয়ারায় কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) ও চায়না...

২০৩০ বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিদর্শনে ফিফার প্রতিনিধি দল

২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের ভেন্যু নির্বাচনের অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর...

পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা নিরসনে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐকমত্য প্রয়োজন: মীর হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাত নিরসনে দলমত নির্বিশেষে...

রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে...

কর্ণফুলী ওপর দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম...