চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানায় ৬ বছরের মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ের করা মামলায় আব্দুস সালাম (৪২) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুন) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম ফেরদৌস আরার আদালত এ রায় দেন।
আব্দুস সালাম ভোলা জেলার বোরহান উদ্দীন থানার মুন্সির হাট এলাকার পাতার বাড়ির সামশুল হকের ছেলে। তিনি নগরীর পতেঙ্গা থানার কন্ট্রোলের মোড় আম্বিয়া কলোনিতে বসবাস করতেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শিশু ছাত্রীটি মাদ্রাসায় প্লে গ্রুপে পড়তো। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করে কলোনির গলিতে খেলাধুলা করছিল সে। শিশুটির মা দুপুরে নামাজ আদায়ের পর গলিতে দেখতে না পেলে শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন। শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনে মা ২০১৮ সালের ২ জুন দুপুর ২টার দিকে নগরের পতেঙ্গা থানার আম্বিয়া কলোনি আসামি আব্দুস সালাম ঘরে দিকে গেলে দেখেন মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করছে। আসামি ও শিশুটি একই কলোনির বাসিন্দা। এই দৃশ্য দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামি পালিয়ে যায়। উদ্ধারের পর শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়। চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর মামলা নম্বর ৫৫৯ /২০১৮ (পতেঙ্গা)।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর পিপি খন্দকার আরিফুল আলম বলেন, আটজনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ছয় বছরের মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আব্দুস সালাম নামে এক যুবককে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড শিশুর পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। রায়ের পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

