বন্দর নগরী চট্টগ্রামে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয় দিনে সকাল বেলা রোদ উঁকি দিলেও দুপুর গড়াতেই শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। এ যেন ছেড়ে যেতে রাজি নয়। সকালে বৃষ্টি বন্ধ হলেও কমেনি জলজট। নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে কোথাও কোমর সমান, কোথাও আবার হাঁটুজল। পানি জমে আছে বাসাবাড়ি দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও থানায়। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছে নিচু এলাকার বাসিন্দারা।
পানি উঠেছে দোকানপাট ও বাসাবাড়ির নিচতলায়ও। চকবাজার, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, কাগাসগোলা, রহমতগঞ্জসহ অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে বলে মনে করেন নগরবাসী।
নগরীর এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিচু এলাকার অনেক বাসা-বাড়ির পার্কিং ও নিচতলায় বৃষ্টির পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কাজ শেষে রাতে যারা ঘরে ফিরছেন তাদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
চকবাজার মুন্সিপুকুর এলাকার বাসিন্দা কাজল বড়ুয়া বলেন, চকবাজারের বাদরতলার এলাকায় আমার বাসার নিচে পার্কিংয়ে হাঁটু পানি। পার্কিংয়ে থাকা সব গাড়ি ডুবে গেছে। আরাকান সড়কেও হাঁটু পানি। এখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে চট্টগ্রামের কেমন অবস্থা হবে সেটাই ভাবছি।
দিদার মার্কেট এলাকার বাসিন্দা রাজিব খোকন বলেন, দুদিন যাবত বাসার নিচ তলায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। বাসা থেকে বের হতে পারিনি দুদিন। পাশের বাসায় নিচে পানি ওঠাতে সকাল বেলা বাসা ছাড়তে হলো এক দমপতির।
এদিকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে নগরীর দুই নং গেইট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট চাঁদগাও গাড়ি চলাচল করতে না পেরে ঘন্টার পর ঘন্টা মাল বোঝাই ট্রাক আর বাসের জ্যাম দেখা গেছে। অফিসগামী মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে দু’তিন ঘন্টা।
জলাবদ্ধতার এই চরম দুর্ভোগে ক্ষুদ্ধ নগরবাসী। জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের সমন্বয়হীনতাকে দুষছেন তারা। বর্ষা মৌসুমে সামনের দিনগুলো নিয়ে শংকায় আছেন তারা। ঠিক সময়ে নালা-খাল পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। ভাটার সময় পানি দ্রুত নালা-খাল হয়ে কর্ণফুলী-বঙ্গোপসাগরে চলে গেলে এমন দুর্যোগে পড়তে হতো না বলে মনে করেন তাঁরা।

