বোয়ালখালীতে মাদ্রাসা ছাত্র ইফতেখার মালিকুল মাশফিকে (৭) জবাই করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একই মাদ্রাসার ১৫ বছর বয়সী দুই সিনিয়র ছাত্র। হত্যার প্রায় তিন মাস পর এমন রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রোববার (১৯ জুন) সকালে পিবিআইয়ের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও কম্বল উদ্ধার করেছে। এছাড়া অভিযুক্ত দুই ছাত্র খুনের দায় স্বীকার করে বিকেলে চট্টগ্রামের একটি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এসময় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবেও দুই ছাত্রের জবানবন্দি নেওয়া হয়।
এর আগে গত ৫ মার্চ বোয়ালখালী উপজেলার আল্লামা শাহসূফী অছিয়র রহমান মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার স্টোর রুম থেকে ইফতেখার মালিকুল মাশফি নামে ৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত মাশফি চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ফকিরাখালী গ্রামের প্রবাসী আব্দুল মালেকের ছেলে। সে মাদ্রাসার হেফজখানা বিভাগের নাজেরা বিভাগের ছাত্র ছিল।
মাশফির মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবার ও স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। তবে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদেও খুনের রহস্য ধরতে পারেনি পুলিশ। গত ১০ এপ্রিল মামলাটির তদন্তের ভার পায় পিবিআই।
চট্টগ্রাম জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের কাছে দায়িত্ব আসার পর সার্বিক দিক বিবেচনায় এনে তদন্ত করা হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও পিবিআইয়ের নিজস্ব পন্থায় আমরা দুইজন মাদ্রাসা ছাত্রকে চিহ্নিত করি। এদের দুজনের বয়স ১৫ বছর। এরা ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ দেয়। তাদের জবানবন্দীতে এ ঘটনায় দুই শিশু জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্যতা পাই। তাদের দেওয়া তথ্যের আলোকে ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা ছুরি, কম্বল ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করি।

