ক্যারিয়ারে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন তাওহিদ হৃদয়।
তাঁর রেকর্ডগড়া ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৮৬ রান। এতে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় স্বাগতিকরা। অথচ একসময় বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। জবাবে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে বিনা উইকেটে ৭ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আলোক স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হয়।
৩৫৯ বল মোকাবিলা করে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হবে তাঁর এই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ বাংলাদেশি ক্রিকেটার হলেন হৃদয়। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুশফিকের আগের সর্বোচ্চ রানের ২১৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে এই সংস্করণে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক হয়েছেন হৃদয়।
২৫ বছর বয়সী হৃদয় নিজের তৃতীয় টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিনত করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন।
যে পরিস্থিতিতে তিনি ক্রিজে এসেছিলেন, তাতে হৃদয়ের ইনিংসটি আরও বেশি প্রশংসার দাবীদার। বাংলাদেশ ২ উইকেটে ২২ রান নিয়ে ধুঁকছিল। সেখান থেকে ইনিংস সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন তিনি।
তৃতীয় দিনের সকালে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে খেলতে নামেন হৃদয় ও মুশফিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করছিলেন তাঁরা। তবে বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান ৭৩ রানের জুটি ভেঙে মুশফিককে ৩৪ রানে সাজঘরে পাঠান।
এরপর ওয়ারিকান ও অধিনায়ক রোস্টন চেজের বোলিংয়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে ধ্বস নামে। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৮৪ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেওয়ার পথে, তখন তাইজুল ইসলামকে পাশে পান হৃদয়। অষ্টম উইকেটে দুজন মিলে ১১৭ রান যোগ করে বাংলাদেশকে আবার লড়াইয়ে ফেরান এবং দলীয় সংগ্রহ ৩০০ পার করেন।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগে শেষ ওভারে চেজের বলে এক রান নিয়ে ১৭১ বলে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়।
তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর ব্যাটিংয়ের গতি পুরোপুরি বদলে ফেলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর চড়াও হন। ১১টি ছক্কার মধ্যে ১০টিই এসেছে সেঞ্চুরি করার পর
সেঞ্চুরির পর ১০টি ছক্কা হাঁকিয়ে টেস্ট ইনিংসে বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন হৃদয়। সব মিলিয়ে ১১টি ছক্কা মেরে টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো ব্যাটারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তাঁর ওপরে রয়েছেন পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম ও ভারতের যশস্বী জয়সওয়াল।
১০৪ রানে ৪ উইকেট নেওয়া ওয়ারিকান শেষ পর্যন্ত ২২ রানে তাইজুলের প্রতিরোধ ভাঙেন। তবে তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে আক্রমণ অব্যাহত রাখেন হৃদয়।
নবম উইকেটে দুজন যোগ করেন ৮৫ রান। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় স্বাগতিকরা।
৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। ওয়ারিকানের বলে লং-অফের দিকে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানই ছিল বাংলাদেশের ইনিংসের মূল ভিত্তি। শেষ পর্যন্ত জেইডেন সিলেস তাসকিনকে আউট করলে ৩৮৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। দ্বিতীয় দিন গোড়ালিতে চোট পাওয়ায় ব্যাট করতে পারেননি ওপেনার সাদমান ইসলাম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই দুটি রিভিউ নষ্ট করে বাংলাদেশ। এরপর ব্র্যান্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভা বাকি চার ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন। দিনের খেলা শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান করেছে সফরকারীরা।

