কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৪৯ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর মধ্যে কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে আটক করা হয়েছে ৬৪৯ জনকে। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১০২ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৮১ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৪১ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় চারজন, ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩৫ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ১৩৭ জন এবং সাজা পরোয়ানায় ১৬ জন রয়েছেন।
এছাড়া মাদক মামলায় ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও ৪৭ জন। অভিযানে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৩১ জনকে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় ১০ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৩৫টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযানে ১৭ হাজার ৪৪ পিস ইয়াবা, ৩০ কেজি ৪৩৫ গ্রাম গাঁজা, ১৮৮ লিটার চোলাই মদ, ছয় বোতল বিদেশি মদ এবং ৬৯৭ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ২০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আটজন, কক্সবাজারে একজন, কুমিল্লায় চারজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, নোয়াখালীতে তিনজন, ফেনীতে একজন এবং খাগড়াছড়িতে দু’জন রয়েছেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৪৯ জনের মধ্যে ৪১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৩০ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ৩৮৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৭০, লক্ষ্মীপুরে ৪৩, চাঁদপুরে ৩৭, কক্সবাজারে ৩৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮, ফেনীতে ১৮, নোয়াখালীতে ১৭, রাঙামাটিতে ১২, বান্দরবানে আট এবং খাগড়াছড়িতে সাত জনকে আটক করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

