ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।
আজ চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুদকের পক্ষ থেকে চারজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। আগামী ৪ অক্টোবর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। পরে জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ইউসিবিএলের পোর্ট শাখা থেকে প্রতিষ্ঠানটির নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঋণ প্রস্তাবের বিষয়ে ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করে ঋণটি অনুমোদন করা হয়। দুদকের তদন্তে ঋণ অনুমোদনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের প্রভাব ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের পুরোনো দেনা পরিশোধে ব্যবহার করা হয়। অবশিষ্ট প্রায় ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা নগদে উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়।

