মুষলধারে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বন্যায় বিপর্যস্ত এ অঞ্চলের বাসিন্দারা। তলিয়ে গেছে এই দুই জেলার সব বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। পানিতে তলিয়ে গেছে সঞ্চালন লাইনও। ফলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুই জেলার সব বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। এতে দুই জেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শনিবার (১৮ জুন) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পানি উঠে যাওয়ায় আপাতত সাব স্টেশনটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি পানি সেচে দ্রততম সময়ের মধ্যে এটি আবার চালু করতে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই সাব স্টেশনে পানি উঠতে শুরু করে। শুক্রবার দুপুর থেকে এই কেন্দ্র সচল রাখতে যৌথভাবে কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে বাধ নির্মাণ করেন তারা। তবে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্ধ করে দিতে হলো উপকেন্দ্রটি।
এদিকে আগামী দুই দিন বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে জানিয়েছে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী চলমান বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছ।
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সিলেটের ৬০ শতাংশ এবং সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। সড়ক-মহাসড়ক, ঘর-বাড়ি সবই ডুবেছে। বন্যার এমন ভয়াবহ রূপ আগে দেখেনি সিলেটের মানুষজন।
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। টেলিফোন নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে গেছে। বলা যায় সিলেট বিভাগ কার্যত সারাদেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এর আগে, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছাকাছি বন্যার পানি চলে আসায় বিমান চলাচল তিনদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুন) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, আগামী সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত সকল ফ্লাইট ওঠা-নামা বন্ধ থাকবে।

