ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনসংখ্যার অর্ধেক নারীকে বাদ দিয়ে কোনো দেশের অর্থনীতি টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।
আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (স.) অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশু দিনের বড় একটি সময় পরিবারের সঙ্গে কাটায়। তাই শুধু শিক্ষকদের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না, সন্তান কী পড়ছে, কীভাবে সময় কাটাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনভাবে খোঁজখবর রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ফেসবুক ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোনো সন্তান যদি বই কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে, তাকে উৎসাহিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং মানসম্মত পাঠদানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নওশীন আরজান হেলালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, বিদ্যালয়ের সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী ড. কানিজ ফাতেমা এবং বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান দৌলত। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এ সময়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

