কনটেইনার, কার্গো এবং বাণিজ্যিক জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। অর্থবছরের শেষ দিনের (৩০ জুন) হিসাব ছাড়াই বন্দরটি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় সবকটি সূচকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
এবার কনটেইনার জাহাজের গড় অবস্থান সময় কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৮ দিন।
অর্থবছরের শেষ দিনের হিসাব বাদ দিয়েই এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯০ টিইইউ’স হ্যান্ডলিং করেছিল এ বন্দর।
বন্দরসূত্রে জানা গেছে, দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশ পরিবহন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। কনটেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৯৮ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৯ জুন পর্যন্ত বন্দরটিতে ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ’স (২০ ফুট দীর্ঘ একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন হয়েছে। আগের অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউ’স।
অর্থাৎ, সমাপনী দিনের হিসাব ছাড়াই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯০ টিইইউ’স কনটেইনার পরিবাহিত হয়েছিল।
কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি এবার কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থান সময় (টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম) আরও কমে এসেছে। যা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম বড় প্রমাণ।
খোলা পণ্য (বাল্ক কার্গো) ২৯ জুন পর্যন্ত বন্দর দিয়ে মোট ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৯১ টন খোলা পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ টন। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
উল্লেখিত সময়ে বন্দরে আগমনকারী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজচার ৩২৪টিতে। যা আগের বছরের ৪ হাজার ৭৭টির তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
রেকর্ড অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কার্গো, কনটেইনার ও ভ্যাসেল হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ২৯ জুন পর্যন্ত পরিসংখ্যানে গত অর্থবছরের তুলনায় এবার কার্গোতে ৫ দশমিক ৩৬, কনটেইনারে ৬ দশমিক ৭৬ এবং ভ্যাসেল হ্যান্ডলিংয়ে ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ফাইনালি এগুলো আরও বেশি হবে।
তিনি বলেন, সরকার ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের দক্ষ ব্যবস্থাপনা, অটোমেশন, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়ন, বন্দর ব্যবহারকারী, বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

