খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গ্রামবাসীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর একটা–দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১০টি স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল।
অভিযান পরিচালনার সময় ১০০ থেকে ১৫০ জন দুষ্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোবাইল কোর্টের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পায়ে আঘাত লাগে। এছাড়া রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ, চারজন আনসার সদস্য ও মোবাইল কোর্টে সহায়তাকারী পাঁচ কর্মচারীসহ মোট ১১ জন আহত হন। হামলাকারীরা সরকারি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করে বলে তিনি জানান। ইউএনও আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি দাবি করেন, অভিযান শেষে প্রশাসনের দল ফিরে আসার সময় আবারও হামলার শিকার হয়। তবে বিনা কারণে গুলি চালানোর অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। অপরদিকে স্থানীয় কৃষক ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, ইউএনওর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের তিনটি সেচ মেশিন ভেঙে ফেলা হয়। এতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রতিবাদ জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়। এতে অন্তত চারজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে দুষ্কৃতিকারীরা মোবাইল কোর্টের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়।

