এবারও চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় স্থান দখল করে রেখেছে । এ নিয়ে বাংলাদেশ টানা চার বছর তৃতীয় স্থান ধরে রাখলো। বাংলাদেশে চলতি বছর ৩ কোটি ৮৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। শুক্রবার (১১ জুন) এফএও প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ফুড আউটলুক-জুন ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর উৎপাদনে শীর্ষে থাকবে চীন। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে ভারত। টানা কয়েকটি দুর্যোগ মোকাবিলা করেও বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টন চাল উৎপাদন করে। ওই বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। ২০২০ সালে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে থাকে। সেবছর উৎপাদিত হয় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টন চাল। ২০২১ সালেও বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থান ধরে রাখে। সেবছর বাংলাদেশে চাল উৎপাদন বাড়ে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টন। এ বছর উৎপাদন ৬ লাখ টন বেড়ে ৩ কোটি ৮৪ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। এ হিসেবে গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশে চাল উৎপাদন ১ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে।
এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাল উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে এর বাড়তি দাম। সঙ্গে বেড়েছে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার। এফএও বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট দানাদার খাদ্য আমদানি হয়েছে ৯১ লাখ টন। এটি আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে কমে দাঁড়াবে ৯০ লাখ টনে। গমের আমদানি আগামী অর্থবছর ৬৫ লাখ টন হবে। গত এক যুগে দেশে গমের ভোগ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে গমের উৎপাদন ১০ লাখ টন থেকে বেশ কমে ৭ লাখ টনে নেমে আসে। ২০২০ তা বেড়ে আবারও ১১ লাখ টন হয়েছে। গত বছর তা ১৩ লাখ টন হয়। আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে পুষ্টিকর খাবার যেমন ভোজ্যতেলের আমদানিও বেড়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ গড়ে ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করত। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে ২১ লাখ টনে নেমে আসে। চলতি অর্থবছর তা কিছুটা বেড়ে তা ২২ লাখ টন হতে পারে।
ইমা

