রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে রিয়াদ বিন সেলিম নামের এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পটিয়া থানা পুলিশ। সেলিম পটিয়া পৌরসভার পাইক পাড়ার ৬নং ওয়ার্ডের মৃত মো: সেলিম উদ্দিনের পুত্র।
গত শনিবার দিবাগত রাতে পটিয়া সার্কেলের এএসপি মোহাম্মদ নোমান আহমদ ও ওসি জিয়াউল হকের নেতৃত্বে পটিয়া থানার একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বসতঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তার ছবি সংবলিত আইডি কার্ড, যাতে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ‘সিএসএফ চেয়ারপার্সন সিকিউরিটি ফোর্স’ কার্ড নং-০১৩। ১টি হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর। একটি চার্জারসহ ওয়াকিটকি হ্যান্ডসেট। ১টি কালো হাতল বিশিষ্ট সিগন্যাল লাইট, আসামির ছবি সম্বলিত ১টি মনিটরিং সেল কার্ড, ১টি ওয়াকিটকি সদৃশ্য মোবাইল ফোন ও ১টি আইটেল বাটন মোবাইল সেট জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডি ইংরেজিতে লায়ন রিয়াদ সেলিম এ বিভিন্ন সময় সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিসহ মন্ত্রীদের সাথে তার ঘনিষ্টতার ছবি পোস্ট করে লোকজনকে বিভ্রান্ত ও প্রতারণা করতেন।
প্রাথমিকভাবে ছবিগুলো এআই জেনারেটেড মর্মে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার ভুয়া আইডি কার্ড তৈরী করে তদবির বাণিজ্য করতেন মর্মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে আগ্রাবাদে বসবাসরত কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানার সাইচাপাড়া বজল মাস্টার বাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র কামরুল হাসান গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে থাকাকালীন সময়ে প্রতারক রিয়াদ বিন সেলিম, মো: কামরুল হাসানের স্ত্রীর নিকট সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি দ্রুত জামিন করিয়ে দিবেন মর্মে আশ্বাস প্রদান করে বিকাশে প্রথমে ১৫,৩০০ টাকা নেন।
পরবর্তীতে মো: কামরুল হাসানের স্ত্রীর নিকট থেকে একই আশ্বাসে আরো ২ লাখ টাকা সরাসরি নেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার পটিয়া থানার (মামলা নং-৬) দায়ের করেন।
আসামির পিসিপিআর বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে সিএমপি আকবরশাহ থানার এফআইএর নং- ০৩, তারিখ: ১/১/২০১৮ খ্রি. ধারা- ৭/৯(১) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০(সংশোধনী/২০০৩) ও সিএমপি চাঁদগাও থানার এফআইআর নং- ১৭, তারিখ: ১০/০৩/২০২৩ ধারা- ৩৬(১) সারণীর ১০(খ) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮; তৎসহ ১৭০/১৭১/৪২০ পেনাল কোড ১৮৬০, বর্ণিত ওয়ারেন্ট মূলতবী রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।
অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স ইন্সপেক্টর কন্ট্রোল ও সার্ভার ইনচার্জ ইত্যাদি পদে চাকরি দেয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির সাথে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
ভূয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য সরবরাহ করে সে অবৈধভাবে টাকা আত্মসাৎ করতো বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে সে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক লোককে ঠকিয়ে অর্থ উপার্জনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক জানান, তাকে জেলা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

