চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরকে অবশেষে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া বিশাল এক অভিযানের পর দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ এই সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুর একটি বিশাল ও দুর্গম এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সেখানে রাষ্ট্রীয় আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। ৩ হাজারেরও বেশি সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই অভিযানে সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশপথ ও পাহাড়ি আস্তানাগুলো ঘিরে ফেলা হয়।
অভিযানের মূল অর্জন ও বর্তমান পরিস্থিতি:
১. পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: ডিআইজি জানান, এটি ছিল এই এলাকায় প্রবেশের চতুর্থ প্রচেষ্টা এবং এবারই প্রথম এলাকাটিকে পুরোপুরি করায়ত্ত করা গেছে।
২. অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন: আজ থেকেই জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব ও পুলিশের দুটি স্থায়ী ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হবে যাতে সন্ত্রাসীরা পুনরায় মাথাচাড়া দিতে না পারে।
৩. আটক ও অস্ত্র উদ্ধার: এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান পেতে কিছুটা সময় লাগছে।
৪. অবকাঠামো উন্নয়ন: এলাকাটিকে মূল ভূখণ্ডের সাথে সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার আওতায় আনতে এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘকাল ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। পাহাড়ের ভেতরে অবৈধ বসতি স্থাপন, অস্ত্র মজুত এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের মূলোৎপাটন এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সুপরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়।
ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল এই বিশাল দুর্গম এলাকায় রাষ্ট্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, যা আমরা অর্জন করেছি। এই নিয়ন্ত্রণের ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় বড় অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সহজ হবে।”
বর্তমানে পুরো এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং তল্লাশি অভিযান অব্যাহত আছে।

